আগামী ৪ জুন শেষ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোরের শার্শা উপজেলায় আওয়ামী লীগের মধ্যকার বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। একই দলের ব্যানারে এমপি গ্রুপ ও মেয়র গ্রুপ থেকে মনোনয়ন বঞ্চিতরা কর্মীদের সমর্থন আর নিজ উদ্যোগে নৌকার বিপক্ষে চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। ফলে এখানকার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মধ্যে আটটিতেই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
এ অবস্থায় জেলা আওয়ামী লীগ আট প্রার্থীসহ মোট ১০ জনকে বহিষ্কার করেছে। সোমবার বিকেলে বহিষ্কারের একটি চিঠি গণমাধ্যমকে দেওয়া হয়। তবে বিদ্রোহীরা অনড় অবস্থানে রয়েছেন।
আরও পড়তে পারেন: মা ন্যান্সির গান ছোট্ট আলিনাকে উৎসর্গ
শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগ বেশ কয়েক বছর ধরেই দু’ভাগে বিভক্ত। এক অংশের নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এমপি শেখ আফিল উদ্দিন ও আরেক অংশের নেতৃত্ব দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও যুবলীগের উপ-শিল্প-বাণিজ্য সম্পাদক বেনাপোল পৌরসভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন।
এই দুই গ্রুপ ৬ষ্ঠ ধাপের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার ১০ ইউনিয়ন থেকে মনোনয়ন দিতে প্রার্থীদের দু’টি তালিকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে জমা দেয়। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দু’টি তালিকা থেকে দুই পক্ষের পাঁচজন করে ১০ জন নেতাকে মনোনয়ন দেন। পরে বঞ্চিতরা স্ব-স্ব বলয়ের অনুমতি নিয়ে বিদ্রোহী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। অনেকে এই বিষয়টি প্রচার করেই ভোট চাইছেন।
এ ব্যাপারে মেয়র আশরাফুল আলম লিটন বলেছেন,দলের সভানেত্রী ১০ জনের মধ্যে আমার পছন্দের পাঁচ প্রার্থীকে নৌকার মনোনয়ন দিয়েছেন। কিন্তু স্থানীয় এমপি আমার অনুসারী পাঁচজনের বিপক্ষেই বিদ্রোহী প্রার্থী দাঁড় করিয়েছেন। আমি উনার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী দেইনি। এমপি নেত্রীর নির্দেশ মানেন না। নেত্রীর বিপক্ষে এমপি আফিল উদ্দিন অবস্থান নিয়েছেন ।’
এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র লিটন বলেন,উলাশী ও কায়বা ইউনিয়নে যারা বিদ্রোহী রয়েছেন আমি তাদের সঙ্গে নেই। ১০ ইউনিয়নের নৌকার প্রার্থীর সঙ্গেই আমি রয়েছি।’
নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ডিহি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল খালেক, সহ-সভাপতি হোসেন আলী, লক্ষণপুর ইউনিয়ন শাখার সহ-সভাপতি শামসুর রহমান, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান,পুটখালী ইউনিয়ন শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাদিউজ্জামান,কায়বা ইউনিয়ন থেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, উলাশী ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ায় উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি শহিদুল আলমকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আর নিজামপুর থেকে প্রার্থী হওয়ায় যুবলীগ নেতা আবুল কালাম এবং তার পক্ষে নির্বাচন করায় বহিষ্কার হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুল ওহাব ও সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম। তাদের দল ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করে সোমবার গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: লরেন্সের বাসার সামনে রাত কাটান ১০ ব্যক্তি!
জেলা আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক এসএম মাহমুদ হাসান বিপু স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
/এমএসএম /







