দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভেতরেই দুর্নীতি রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, আমি গত আড়াই মাসে দেখেছি, অনুসন্ধান-তদন্ত যে সময়ে করার কথা, সে সময়ে করা হয় না। মঙ্গলবার রাজশাহী শিল্পকলা অ্যাকাডেমিতে দুদকের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের আয়োজিত এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সত্য বলতেই হবে। সত্য বলার পেছনে কিছু নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনের হাজার হাজার মামলা ‘ডিপ ফ্রিজে’ পড়ে আছে। অথচ কথা ছিল, দুদক কর্মকর্তারা ৩০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করবেন। আমি একটি মামলাও দেখিনি ৩০ দিনে অনুসন্ধান শেষ হয়েছে। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, ১০ বছর আগের নথিও আমার কাছে আসে।
তবে দুদকের ভেতরের দুর্নীতি দূর করতে ইতোমধ্যেই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে ইকবাল মাহমুদ বলেন, কেন এসব নথি পড়ে রয়েছে, তার ৮৭৩টি ব্যাখ্যা দিতে দুদকের কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। একটি সংস্থার যদি এই অবস্থা চলে, তাহলে কিভাবে এই সংস্থা কাজ করবে? সংস্থার ওপরে কিভাবে মানুষ বিশ্বাস রাখবে? মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। বিশ্বাস অর্জন করতে হবে। বিশ্বাস সমাজের চালিকা শক্তি। দুদকের প্রতি মানুষের আস্থা ফেরাতে হবে। তাই আমরা ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি।
ইকবাল মাহমুদ আরও বলেন, এ সবের প্রতিরোধ শুরু হয়েছে। কমিশন ঘর থেকেই সংশোধন শুরু করেছে। তবে অপরাধীদের এই ভেবে লাভ নেই যে আমরা দুর্নীতি দমন বাদ দিয়ে প্রতিরোধ করছি। আমরা দমন বাদ দিয়ে প্রতিরোধ করি না। ঘুণে ধরা সমাজ এভাবে চলতে পারে না। আমরা কাউকে ছাড় দিতে রাজি নই। কথা বলার সময় নেই। এখন সময় এসেছে কিছু করার। সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে আমরা দুর্নীতি রুখব। আগামী প্রজন্ম চোখ খুলে দেখবে, বিশিষ্ট দুর্নীতিবাজরা আইনের আওতায় এসেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ ও গবেষণা) ড. মো. শামসুল আরেফিন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার আবদুল হান্নান ও পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি খুরশীদ হোসেন। অনুষ্ঠানে তারাও দুর্নীতিবিরোধী বক্তব্য দেন।
আলোচনাসভার শেষে রাজশাহী বিভাগের শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যদের মাঝে ক্রেস্ট বিতরণ করা হয়। এরপর দুর্নীতিবিরোধী একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
জেলা পর্যায়ে এ বছর রাজশাহী বিভাগে শ্রেষ্ঠ দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি নির্বাচিত হয়েছে বগুড়া জেলা কমিটি। উপজেলা পর্যায়ে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি প্রথম, বগুড়ার শেরপুর দ্বিতীয় এবং পাবনার বেড়া তৃতীয় নির্বাচিত হয়েছে।
আরও পড়তে পারেন: নড়াইলে আ. লীগ প্রার্থীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা
/এমএনএইচ/








