ঝিনাইদহে পুরোহিত হত্যাকাণ্ড

হত্যার আগে মোটরসাইকেলে ঘুরঘুর করছিলেন তিন যুবক

নয়ন খন্দকার, ঝিনাইদহ
০৭ জুন ২০১৬, ১৬:০৯ আপডেট : ০৭ জুন ২০১৬, ১৯:৫৭

অনেক স্থানে পূজা ছিল। তাই সকালে চা না খেয়েই বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী। বাইসাইকেল চালিয়ে তিনি কালীগঞ্জের কলেজ পাড়া (মাস্টার পাড়ার) কটার বাড়িতে পুজা করতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু বাড়ি থেকে দুই কিলোমিটার দূরে মহিষার ভাগাড় সোনাইখালি মাঠের মধ্যের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়। কান্না জড়িত কণ্ঠে এসব কথা জানান নিহত পুরোহিতের স্ত্রী শেফালী গাঙ্গুলীসহ আত্মীয়-স্বজনরা। মঙ্গলবার সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দুর্বৃত্তদের হাতে নিহত হন পুরোহিত আনন্দ গোপাল গাঙ্গুলী।

আনন্দ গোপাল হত্যাকাণ্ড

করাতিপাড়া গ্রামের কৌশিক চ্যাটার্জী নামের এক যুবক জানান, হত্যাকাণ্ডের আগে মাঠের মধ্যের ওই রাস্তা দিয়ে তিন যুবক একটি মোটর সাইকেলে চড়ে বার বার যাওয়া-আসা করছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। এর কিছুক্ষণ পর খবর পাওয়া যায় পুরোহিতের মৃতদেহ মাঠের মধ্যে পড়ে আছে। তাকে মাথায় ও ঘাড়ে  কুপিয়ে এবং গলা কেটে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

কৌশিক বলেন, সম্ভবত বাইসাইকেল চালিয়ে যাবার সময় পুরোহিতকে পেছন থেকে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এরপর কুপিয়ে ও গলাকেটে তাকে হত্যা করে হয় বলেই ধারণা করছেন ওই যুবকসহ এলাকার অনেকে। এলাকাবাসীর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

নিহতের ভাই গোবিন্দ গোপাল গাঙ্গুলী জানান, তার ভাইয়ের বয়স প্রায় ৭০ বছর হবে। তিনি সাধারণত বিভিন্ন মন্দিরে ও বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে পূজা করে আসছেন। পূজা পার্বন করাই ছিল তার পেশা। তিনি এই পূজা পার্বন করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এলাকার তার কোনও শত্রু ছিল না। কেন তাকে নৃশংসভাবে মারা হলো এটা আমরা ভাবতি পারছি না।

হত্যার ধরন দেখে এর সঙ্গে জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন ঝিনাইদহ সদর সার্কেল এএসপি গোপিনাথ কানজিলাল।

তবে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জানান, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা এখনও জানা যায়নি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা আছে নাকি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তদন্ত ছাড়া কোনও কিছুই বলা যাবে না।

 /টিএন/

আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য পরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতাল ছাড়লেন শার্শায় ‘ধর্ষিত’সেই গৃহবধূ!

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
১৯৯০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে হামে প্রথম শিশুমৃত্যু
১৯৯০ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে হামে প্রথম শিশুমৃত্যু
দূষণ থেকে বাঁচতে ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার, না কি গাছ উপকারি?
দূষণ থেকে বাঁচতে ঘরে এয়ার পিউরিফায়ার, না কি গাছ উপকারি?
মোটরসাইকেলে ৬ জনে এসে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি
মোটরসাইকেলে ৬ জনে এসে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীকে গুলি
গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে মজুত করতো তারা, গ্রেফতার ৪
গাড়ির মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে মজুত করতো তারা, গ্রেফতার ৪
সর্বাধিক পঠিত
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় সংসার চলে যাদের, তাদের জন্য সুখবর নাকি দুঃসংবাদ?
সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় সংসার চলে যাদের, তাদের জন্য সুখবর নাকি দুঃসংবাদ?
প্রথমদিন সেন্টমার্টিনে ৮৩৭ পর্যটক, যেতে খরচ লাগে কত
প্রথমদিন সেন্টমার্টিনে ৮৩৭ পর্যটক, যেতে খরচ লাগে কত
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ফারজানা আফরোজ
এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ফারজানা আফরোজ
গাজীপুর সাফারি পার্কে জন্ম নিয়েছে নীলগাইয়ের চার শাবক
গাজীপুর সাফারি পার্কে জন্ম নিয়েছে নীলগাইয়ের চার শাবক
ক্লাসরুমে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়ায় ৯ শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে টিসি
ক্লাসরুমে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেওয়ায় ৯ শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে টিসি