শিক্ষক, রোগী ও চিকিৎসা সামগ্রীর স্বল্পতা নিয়ে চলছে নর্দান মেডিক্যাল কলেজ

রংপুর প্রতিনিধি
১৩ জুন ২০১৬, ২২:৫৩আপডেট : ১৪ জুন ২০১৬, ১৭:২২

স্বাস্থ্যমন্ত্রী কর্তৃক রংপুর নর্দান প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ সহ ৩টি মেডিক্যাল কলেজের নিবন্ধন সাময়িক স্থগিত করার আদেশ দেওয়ায় নর্দান প্রাইভেট কলেজ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্ট হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় কলেজের অধ্যক্ষকে ঘেরাও করেন। শিক্ষার্থীদের রোষের আশঙ্কায় কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতিসহ কেউই কলেজ এলাকায় আসেননি।

নর্দান মেডিক্যাল কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবন

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সরকারের আকস্মিক এ ঘোষণায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। শিক্ষার্থীরা মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে অন্তত ছয় মাস সময় দিয়ে তাদের সমস্যা সমাধানের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সরকারের কাছে।

সোমবার সরেজমিনে রংপুর নগরীর ধাপ এলাকায় অবস্থিত নর্দান প্রাইভেট কলেজে গিয়ে দেখা যায় শিক্ষার্থীরা বিচ্ছিন্নভাবে জোটবদ্ধ হয়ে আলাপ করছেন। কলেজের নিবন্ধন কেন বাতিল করা হলো এ সম্পর্কে কোনও ধারণাই তাদের নেই। বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা কলেজের সভাকক্ষে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমানের সঙ্গে মত বিনিময় সভায় মিলিত হয়।

এ সময় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তোপের মুখে পড়েন অধ্যক্ষ। শিক্ষার্থীরা জানতে চান কী কারণে কলেজের নিবন্ধন বাতিল হলো। কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্যদের উপস্থিত হয়ে কারণ ব্যাখ্যার দাবি জানাতে থাকেন তারা। দুপুর ১ টা পর্যন্ত পুরো কলেজে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্ট হয়। শিক্ষার্থীরা ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে জানায় তাদের লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।

প্রায় এক যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত হয় নর্দান প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকলেও পরিচালনা পর্ষদের দ্বন্দ্বের কারণে শিক্ষক সংকট এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং হাসপাতাল চালু না হওয়ায় এর আগেও একবার কলেজের নিবন্ধন সাময়িক ভাবে বাতিল করা হয়। সে সময় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করানো হয়।

নর্দান মেডিক্যাল কলেজের হাসপাতাল বিভাগ

বর্তমানে কলেজের শিক্ষকের সংখ্যা ৬০ জন বলে দাবি করা হলেও বেশীর ভাগ শিক্ষক অবসরে এবং শিক্ষকদের অনেকের নেই শিক্ষকতা সম্পর্কে বাস্তব কোন অভিজ্ঞতা। অনেক বিভাগে শিক্ষক নেই দীর্ঘদিন ধরে। ধার করা শিক্ষকদের নিয়ে চলে আসছে পাঠদান।

২শ’ বেডের হাসপাতাল কাগজ কলমে সীমাবদ্ধ। তিন তলা হাসপাতাল ভবনে বিভিন্ন বিভাগের সাইন বোর্ড লাগানো থাকলেও কোথাও কোনও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী নেই। একটি মাত্র অপারেশন থিয়েটার  থাকলেও সেখানেও অপারেশন করার মতো কোনও পরিবেশ নেই। নেই হাসপাতালে আইসিইউসহ কোনও চিকিৎসা সুবিধা। ফলে শিষক্ষার্থীরা শুধু মাত্র বই পুস্তকের মাধ্যমে জ্ঞান আহরণ করতে পারলেও বাস্তবে তাদের কোনও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারছেনা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান একটি মেডিক্যাল কলেজ পরিচালনা করতে শিক্ষক প্রয়োজনীয় শিক্ষার উপকরণ একটি আড়াই শ’ বেডের হাসাপাতাল থাকার কথা থাকলেও এখানে কিছুই নেই। এরপরও কলেজে প্রায় ৪শ’ শিক্ষার্থী রয়েছেন। যারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসে ডাক্তার হবার স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি হয়েছেন।

প্রথম বর্ষ থেকে পঞ্চম বর্ষের পরীক্ষার্থী বেশ ক’জন শিক্ষার্থী আক্ষেপ করে জানালেন, তারা শুধুই নামেই শিক্ষার্থী, বিগত পাঁচ বছরে তারা শিখতে পারেননি কিছুই। সালমা নামে এক শিক্ষার্থী জানালেন, তিনি আট লাখ দিয়ে ভর্তি হয়েছেন চলতি শিক্ষাবর্ষে । মোট ১৬ লাখ টাকা দিতে হবে। এ ছাড়াও প্রতি মাসে টিউশন ফি দিতে হয় ১০ হাজার টাকা। এতগুলো টাকা দেওয়ার পরও তাদের ডাক্তার বানানোর নামে প্রতারণা করা হচ্ছে।

একই অভিযোগ করলেন তৃতীয় বর্ষের দুই শিক্ষার্থী মমতাজ ও সালাম। তবে তারা মনে করেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী তাদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষকে একটু সময় দিতে পারতেন। আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক হয়নি।

নিবন্ধন বাতিলের খবর পেয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্মেলনকক্ষে অধ্যক্ষের বৈঠক

এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খলিলুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান পত্রিকায় আর অনলাইনে তারা নিবন্ধন বাতিল হবার খবর দেখেছেন। এখনও তারা লিখিত কোনও নির্দেশনা পাননি। এদিকে চলছে পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের কাজ। কয়েকদিন পর অ্যানাটমি বিষয়ের পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম বর্ষের পরীক্ষাও চলমান। এমন অবস্থায় নিবন্ধন বাতিল হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান এই অধ্যাপক। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একটি মেডিক্যাল কলেজে পাঠদান করতে যা যা প্রয়োজন তা হয়তো নেই এ মুহূর্তে এটি সত্য। কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: বন্ধের খবরে শঙ্কিত গাজীপুর সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা

আরও পড়ুন: ভাড়াটে শিক্ষক ও রোগী দিয়ে চলতো নাইটিংগেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

/এইচকে/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী