উপাচার্য কর্তৃক খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ এনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশাসনিক ভবন থেকে বের করে তালা ঝুলিয়েছে। তবে ছাত্রলীগের এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক নুর-উন-নবী। তিনি বলেছেন, তারা জোর করে তার বাসভবনে প্রবেশ করে তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। এ ঘটনা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে রাতের আঁধারে ছাত্র শিবিরের পোস্টার লাগানোর প্রতিবাদ এবং হলগুলোতে অতিরিক্ত আদায় বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করে। ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি আলী রাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহ -সভাপতি আরিফুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহের মাহমুদ শাওনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
ছাত্রলীগ নেতারা সমাবেশে অভিযোগ করেন, কীভাবে রাতের বেলা ছাত্র শিবির প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে সরকার বিরোধী বক্তব্য সম্বলিত পোস্টার লাগায়। এর মাধ্যমে তারা ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। তারা যেকোনও মূল্যে তাদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।
এছাড়াও ছাত্রলীগের নেতারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের পাত্তা দেয় না।
সমাবেশ শেষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রথমে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তার পিএ জানান, তিনি ভীষন অসুস্থ তাই বাসায় আছেন।
এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে অবস্থিত উপাচার্যের বাসায় যায়। সেখানে তারা ঢুকতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এরপর দেয়াল টপকে কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী বাসার ভেতরে প্রবেশ করে গেইট খুলে দেয়।
এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে উপাচার্যের বাকবিতণ্ডা হয়।
উপাচার্য তাদের বাসা থেকে চলে যেতে বলে। এরপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে প্রশাসনিক ভবনে এসে ৫ মিনিটের মধ্যে সব কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বের হয়ে যাওয়ার আলটিমেটাম প্রদান করে। অন্যথায় কঠোর ব্যবস্থা নেওযার হুমকি দেয় তারা। এসময় তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এরমধ্যে বেশ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রশাসনিক ভবন থেকে বের হয়ে আসলেও নির্বাহী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম তার অফিস কক্ষে আটকা পড়েন।
পরে ছাত্রলীগের নেতারা ৩০ সেকেন্ড সময় দিয়ে তাকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে পুলিশি পাহারায় নির্বাহী প্রকৌশলী বের হয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে চলে যাওয়ার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনের প্রধান গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেয়। তারা ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করায় উপাচার্য ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক ভবন বন্ধ থাকবে। কাউকে সেখানে যেতে দেওয়া হবে না।
এদিকে দফায় দফায় ছাত্রলীগের বিক্ষোভ চলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এরশাদ আলী তাদের থামাতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
ছাত্রলীগ নেতা হাদীউজ্জামান হাদী জানান, উপাচার্য ছাত্রলীগের সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করে ঐতিহ্যবাহী সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।
এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক নুর-উন-নবীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি ভীষন অসুস্থ থাকার কারণে আজ অফিসে যেতে পারেননি। ছাত্রলীগের বেশ কিছু ছেলে কোনও অনুমতি ছাড়াই তার বাসায় ঢুকেছে। তারা বিভিন্ন আজেবাজে কথা বলেছে। সে কারণে তাদের চলে যেতে বলা হয়েছে। এখানে ছাত্রলীগের সম্পর্কে কোনও কথা বলা হয়নি। মূলত এটা একটা ইস্যু তৈরির চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয় বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই এরশাদ আলী জানান, পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আবাসিক শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছে, ছাত্রলীগ তার কর্মসূচি পালনের জন্য হলের অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বাধ্যতামূলকভাবে মিছিলে যাওয়ার জন্য অনেককে বাধ্য করে। জোর করইে তাদের মিছিলে নিয়ে যায় তারা। আর যে সব ছাত্র যেতে রাজি হয়নি ছাত্রলীগ কর্মীরা যাওয়ার সময় হলের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে তাদের আটকে রেখে চলে যায়।
এদিকে আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হলের প্রভোস্টকে মোবাইল ফোনে জানালে তিনি নিরাপত্তা কর্মীদের তালা খুলে শিক্ষার্থীদের যাওয়ার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেন।
এসময় কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ সবসময় তাদের কোনও কর্মসূচি থাকলে তাদের জোর করে রুম থেকে মিছিলে যেতে বাধ্য করে। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক কমলেশ কুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, কেউ মিছিলে যাবে কিনা এটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।তাই বলে কাউকে জোর করে মিছিলে নিয়ে যাওয়ার এখতিয়ার কারও নেই।
আরও পড়ুন: রাবিতে জাতীয় বাজেট বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
/এআর/টিএন/








