কয়েকদিনের বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামে পটল, ঢেড়স, করল্লাসহ বিভিন্ন প্রকারের গ্রীষ্মকালীন সবজীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নদী তীরবর্তী ও চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় ৫শ’ হেক্টর জমির সবজি পানিতে তলিয়ে গেছে। ঈদের আগে উঠতি ফসল বিক্রি করতে না পারায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান জানান, টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদী তীরবর্তী এলাকার নিচু জমির কিছু সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। লতানো জাতীয় সবজি ক্ষেতে পানি ঢুকে পড়লে সে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যায়। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পানি নামার পর স্বল্পকালীন সবজি চাষের পরামর্শ দেবো।
এদিকে কুড়িগ্রামের ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি অব্যহত থাকায় নদ-নদী তীরবর্তী অঞ্চল ও চরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৬০ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৫৬ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া গত ৪৮ ঘণ্টায় ধরলার সেতু পয়েন্টে ৩৫ মিলিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে ৪৫ মিলিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
ফলে সদর উপজেলার পাঁচগাছি ও যাত্রাপুর, রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা এবং চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের প্রায় ৫শ হেক্টর জমির পটল, ঢেড়স, করলাসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় তলিয়ে গেছে প্রায় ৩শ’ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের কৃষক মজিবর বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে সবজি চাষে পুঁজি বিনিয়োগ করে লাভ তো দূরের কথা আসলটাই ঘরে তুলতে পারলাম না। লাল শাক, পুঁই শাকতো গেছেই, পটল ক্ষেতে একবার পানি উঠলে সে ক্ষেতও আর টেকে না। এখন কী হবে আল্লাহ জানে।’
সবজি ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন এই ক্ষতির প্রভাব কাঁচা বাজারেও পড়বে।
আরও পড়ুন-
ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তারিখ পরিবর্তন
ফতোয়া স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে: জুনায়েদ বাবুনগরী
/এনএস/এফএস/








