চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার একতারপুর গ্রামে বাউলপস্থী এক সাধু গুরুর আস্তানায় হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ওই হামলার ঘটনায় সাধু ভক্ত (আশেকান) দুই নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন ঝিনাইদহ জেলার ভবানীপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের স্ত্রী রশিদা বেগম (৬০), কুষ্টিয়া জেলার পোড়াদা গ্রামের আব্দুর রহিম (৬৫) ও তার স্ত্রী বুলু বেগম (৫০)। আহতদের প্রথমে জীবননগর হাসপাতালে ও পরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আস্তানার সাধু ভক্ত বক্স মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি নিখোঁজ রয়েছেন।
আস্তানার সাধু গুরু মুকুল হোসেন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এলাকার বিভিন্ন গ্রাম থেকে সাধু ভক্তরা এসে অনুষ্ঠান শেষে ওই আস্তানায় ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ১০/১২ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আস্তানায় ঢুকে সাধু ভক্তদের উপর এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এ সময় তাদের চিৎকারে গ্রামবাসীরা ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। পরে গ্রামবাসী মুমূর্ষু অবস্থায় তিনজনকে উদ্ধার করে জীবননগর হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় পরে তাদেরকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। এছাড়া এ ঘটনার পর থেকে আস্তানার অপর এক সাধুভক্ত কোটচাঁদপুর উপজেলার বলুহর গ্রামের বক্স মণ্ডল নিখোঁজ রয়েছেন।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. আনিছুর রহমান জানান, আহত রশিদার গলায় ও মুখে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আব্দুর রহিম ও বুলু বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে। এছাড়া বুলু বেগমের ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
জীবননগর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির বলেন, আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ কোনও অভিযোগ করেনি। তবে ঘটনাটি লোকমুখে শোনার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
আরও পড়ুন:
ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা: তাত্ত্বিক নেতাদের নাগাল পাচ্ছে না পুলিশ
লক্ষ্মীপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ১১ মামলার আসামি নিহত
/বিটি/








