কুড়িগ্রামে এক কলেজ শিক্ষকসহ তিন জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের স্বজনরা এ ব্যাপারে থানায় জিডি করেছেন। গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে এবং ৭ জুলাই ঈদুল ফিতরের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার পর পুলিশ সদর দফতর থেকে নিখোঁজ স্বজনদের সম্পর্কে থানায় জিডি করার নির্দেশনা দেওয়া হলে এসব জিডি’র তথ্য সামনে চলে আসে।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জেলার ফুলবাড়ি, ভূরুঙ্গামারী এবং চিলমারী থানায় এ বিষয়ে তিনটি সাধারণ ডায়েরি করেছে নিখোঁজদের স্বজনরা। তবে পুলিশ সদর দফতরের প্রকাশিত তালিকায় কুড়িগ্রামের নিখোঁজ তিন জনের নাম রয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি পুলিশের এই কর্মকর্তা।
নিখোঁজরা হলেন, ফুলবাড়ি উপজেলার পশ্চিম অনন্তপুর গ্রামের মৃত ছাবেদ আলীর পুত্র মো. শাহাদৎ হোসেন (২২), ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বেলদহ গ্রামের হাফেজ মো. নাছির উদ্দিনের ছেলে বায়েজিদ (২০) এবং চিলমারী উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের পাটোয়ারী পুটিগ্রামের আ. হাকিমের ছেলে হারুনুর রশিদ ওরফে বাদশা (৩৯)। এদের মধ্যে হারুনুর রশিদ ওরফে বাদশা চিলমারী টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক ছিলেন বলে জানা গেছে।
হারুনুর রশিদ ওরফে বাদশার পিতা আ. হাকিম জানান, ‘নিখোঁজ হারুনুর রশিদ ওরফে বাদশার সঙ্গে তার প্রথম স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর পরিবার থেকে তার দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন করা হয়। কিন্তু বিয়ের দু’দিন আগে ২০১৩ সালের জুন মাসে হারুন কলেজের পরীক্ষার খাতা আনার জন্য (নিরীক্ষক হিসেবে) ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে যাওয়ার পর আজ পর্যন্ত ফিরে আসেনি। নিখোঁজ বাদশার পিতা আরও জানান, এর আগে বাদশা ২০১২ সালে তাবলিগে গিয়ে একবার নিখোঁজ হয়েছিল সে। সেজন্য তিনি ঐ বছর টঙ্গী থানায় একটি জিডিও করেছিলেন। তবে এর কিছুদিন পর বাদশা স্বেচ্ছায় বাড়িতে ফিরে এসেছিলো। কিন্তু এবার নিখোঁজের পর থেকে তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।’
৭২ বছর বয়ষ্ক এই বৃদ্ধ পিতা তার একমাত্র ছেলের ফেরার পথ চেয়ে আজও অপেক্ষায় রয়েছেন। আর বাদশার মা রহিমা বেগম পুত্র শোকে প্রতিদিন চোখের জলে নিজেকে সিক্ত করে চলেছেন। ছেলেকে ফিরে পাবার জন্য আল্লাহর কাছে দু‘হাত তুলে প্রার্থনা করাই তার একমাত্র ভরসা।
ভূরুঙ্গামারীতে নিখোঁজ বায়েজিদের ব্যাপারে থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সাল থেকে নিখোঁজ বায়েজিদ উপজেলার দ্বীপের হাট দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র ছিল। ২০১২ সালের মে মাসে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর বাড়িতে ফোন দিয়ে বলেছিল, ‘ঢাকায় আছি, দু’এক দিনের মধ্যে ফিরবো’। কিন্তু, আজও ফিরে আসেনি বায়েজিদ, এরপর কখনও ফোনও করেনি তার পিতা-মাতাকে।
আর কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ফুলবাড়ির পশ্চিম অনন্তপুর গ্রামের শাহাদৎ হোসেন এ বছর ঈদুল ফিতরের দুই দিন আগে (৫ জুলাই) উপজেলার গঙ্গাহাটের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। নিজের ব্যবহৃত ফোনটিও সঙ্গে না নিয়ে রেখে গেছে বাড়িতেই। অনেক খোঁজাখুজির পরও তাকে না পেয়ে বড় ভাই জাহেদুল হক ফুলবাড়ি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেনে এবছরের ৯ জুলাই।
নিখোঁজ শাহাদৎ হোসেনের বড় ভাই জাহেদুল হক জানান,‘শাহাদৎ কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসা করেও পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। কারও সঙ্গে তেমন মেলামেশাও করতো না সে। সারাদিন বাড়িতেই শুয়ে থাকতো ‘
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার তবারক উল্লাহ জানান, আমরা প্রতিটি ইউনিয়নে কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে মিটিং করে নিখোঁজদের ব্যাপারে জানাতে তাদের স্বজনদের অবহিত করছি। অভিযোগ পেলে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
/টিএন/
আরও পড়ুন:








