সাতক্ষীরা জেলায় এক মাওলানা ও তিন শিক্ষার্থীসহ চারজন দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে দুইজন কলেজ, একজন স্কুলশিক্ষার্থী ও একজন বীমা কর্মকর্তা রয়েছেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন, শ্যামনগর উপজেলার পরাণপুর গ্রামের জলিল গাজীর ছেলে হাবিব হোসেন সুজন (১৬), আবুদল জলিলের ভাতিজা ও দাউদ গাজীর ছেলে শাকিল হোসেন দোলন (১৭), কলারোয়া উপজেলার গদখালি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে মাওলানা জাকির হোসেন (৩৮) এবং কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আব্দুল কাদের (১৬)।
এছাড়া, তালা উপজেলার সাতপাকিয়া গ্রামের আব্বাস গাজীর ছেলে রাশেদ গাজীকেও (২৪) র্যাবের করা নিখোঁজের তালিকায় দেখানো হয়েছে। তবে রাশেদের বাবা দাবি করেছেন নিখোঁজ ছেলেকে তিনি কারাগারে দেখে এসেছেন। নিখোঁজের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেছেন।
জানা গেছে, সুজন (১৬) পরানপুরের এ রউফ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র। পরানপুর গ্রামের আরেক নিখোঁজ হলো দাউদ গাজীর ছেলে শাকিল হোসেন দোলন (১৭)। সে এইচএসসিতে শ্যামনগর সরকারি মহাসিন কলেজে ভর্তি হয়েছিলো। এছাড়া মাওলানা জাকির হোসেন (৩৮) কলারোয়া উপজেলার গদখালি গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে। আর আব্দুল কাদের (১৬) একই উপজেলার মুরারিকাটি গ্রামের আজগর আলীর ছেলে মুরারিকাটি দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন।
সুজনের বাবা আব্দুল জলিল জানান, তার ছেলে সুজন ও ভাতিজা শাকিল ছয় মাস আগে একই দিনে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। এ ব্যাপারে শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা রয়েছে বলেও তিনি জানান।
মাওলানা জাকিরের মা নাসরিন খাতুন জানান, তার ছেলে কলারোয়া উপজেলায় পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সে চাকরি করতো। ছয় মাস আগে কক্সবাজার যাবার কথা বলে সে বাড়ি থেকে চলে যায়, আজও তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তিনি কলারোয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
নিখোঁজ আব্দুল কাদেরের মা মাছুরা খাতুন জানান, তার ছেলে আব্দুল কাদের কলারোয়া পাইলট স্কুলে গত বছর নবম শ্রেণিতে পড়তো। প্রায় নয় মাস আগে সাতক্ষীরা যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বের হয়। আজও সে ফিরে আসেনি। এ ব্যাপারে তিনি কলারোয়া থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন।
সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের তথ্য কর্মকর্তা কামাল হোসেন জানান, নিখোঁজদের তালিকা তাদের হাতে আছে। তারা কি কারণে বাড়ি থেকে চলে গেছে, সে ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করছে। এছাড়া তাদের উদ্ধারের ব্যাপারে পুলিশ কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
/এমও/







