শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মনযুর-উল হায়দারকে (সুমন আকন্দ) জঙ্গিবিরোধী র্যালি থেকে বের করে দিয়েছে শাবি শাখা ছাত্রলীগ। সুমন আকন্দ ক্যাম্পাসের বিএনপিপন্থী প্যানেলের শিক্ষক।
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত র্যালিতে শাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ সভাপতি অঞ্জন রায় ওই শিক্ষককে বের করে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ।
জানা গেছে, শিক্ষক সুমন আকন্দকে র্যালি থেকে বের করে দিতে গেলে শাবি ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. আমিনুল হক ভূইয়া বাধা দেন। এ সময় অঞ্জন রায় ভিসির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। পরেই ওই শিক্ষক নিজেই চলে যান।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সভাপতি অঞ্জন রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিগত দিনে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ফেসবুকে নানা ধরনের কটূক্তি করেছেন সুমন আকন্দ। সে কারণেই আমরা তার সঙ্গে র্যালিতে থাকতে পারি না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তিকে যে সমর্থন করে ছাত্রলীগ তাদের সঙ্গে আপোষ করে না।
এ বিষয়ে শাবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহযোগী অধ্যাপক মুহিবুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ওই শিক্ষক যদি দোষী হয়ে থাকেন, তাহলে বের করে দেওয়াটা সঠিক হয়েছে। আর যদি দোষী না হয়ে থাকেন তাহলে এটা আমাদের কারো কাম্য নয়।
র্যালিতে উপস্থিত না থাকায় কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ সামসুল আলম।।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে শিক্ষক মো. মনযুর-উল হায়দার (সুমন আকন্দ) বলেন, জঙ্গিবাদ দল, মত নির্বিশেষে সবার শত্রু। ডিপার্টমেন্টে এসে নোটিশ দেখেই আমি জঙ্গিবাদকে প্রতিবাদ জানাতে র্যালিতে অংশ নিতে যাই। আমি মনে করি, সেখানে আমাকে অপমান করা হয়েছে।
এছাড়া র্যালিতে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ইলিয়াস উদ্দিন বিশ্বাস, প্রফেসর ড. আখতারুল ইসলাম, প্রফেসর ড. কবির হোসেন, অ্যাগ্রিকালচার ও মিনারেল সায়েন্সের ডিন প্রফেসর ড. এ.জেড.এম মঞ্জুর রশিদ, নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান প্রফেসর এ.কে.এম মাজহারুল ইসলাম, লাইফ সায়েন্সের ডিন প্রফেসর ড. আবুল কালাম আজাদ, দ্বিতীয় ছাত্র হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. এস.এম হাসান জাকিরুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ইশফাকুল হোসেন, শাবি ছাত্রলীগ সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ, সহ সভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ, অঞ্জন রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজিদুল ইসলাম সবুজ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য উত্তম কুমার দাসসহ চার শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী।
আরও পড়ুন:
এক বছর ধরে স্ত্রীসহ নিখোঁজ হবিগঞ্জের মাওলানা জুনেদ
/বিটি/








