গত তিনদিনের ভারী বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে নিম্নাঞ্চলের অনেক বাড়ি-ঘর ও মাছের ঘের। ভেঙে গেছে গ্রামের কাঁচা রাস্তা।
কলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাইকেল ওঝা জানান, ইউনিয়নের চকপুকুরিয়া, রামনগর, বৈকণ্ঠপুর, রুথিয়ারপাড়, নলুয়া, কুমরিয়া গ্রাম পানিতে তলিয়ে গেছে। ভেসে গেছে অনেক মাছের ঘের। এছাড়া পিঞ্জুরী ইউনিয়নের কাকডাঙ্গা, দেওপুরা, ছত্রকান্দা, সোনাখালী ও তারাইলের কিছু অংশের রাস্তা-ঘাট বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পিঞ্জুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সিকদার।
কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান উত্তম কুমার বাড়ৈ বলেন, আমার ইউনিয়নের গজালিয়া, তালপুকুরিয়া, মাচারতারা, আমবাড়ি, হিজলবাড়ি ও ভেন্নাবাড়ি গ্রামে পানি উঠে গেছে। এসব এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, উপজেলার ধোড়ার, বানিয়ারী, জামুলা, তিলবাড়ি ও চৌরখুলী গ্রাম প্লাবিত হবার কারণে অনেক বাড়ি-ঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন কুশলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম বাদল ।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, উপজেলার ১৫/২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যাবার রাস্তা ও মাঠ তলিয়ে গেছে। তবে কোনও বিদ্যালয় কক্ষে এখন পর্যন্ত পানি ঢোকেনি। শিক্ষার্থীরা দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে আসছে এবং নিয়মিতভাবে আমাদের পাঠদান চলছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার বলেন, এ পর্যন্ত উপজেলার ২০ শতাংশ মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। আমরা সব এলাকার মৎস্য চাষীদের জাল দিয়ে ঘেরপাড় ঘিরে রাখার পরামর্শ দিয়েছি।
উপজেলা প্রকৌশলী দেবাশীষ বাগচী বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার কলাবাড়ি, কুশলাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের ১৫/২০টি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তলিয়ে যাবার কোনও তথ্য এখন পর্যন্ত আমার কাছে নেই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিলাল হোসেন বলেন, যেকোনও দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি। বিভিন্ন এলাকার খবর নিচ্ছি, যদি কোনও এলাকার বাড়ি-ঘর পানিতে তলিয়ে যায়, তা হলে ওইসব এলাকার জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে শুকনো খাবারসহ সব প্রকার সহযোগিতা করা হবে।
/এমও/







