চট্টগ্রামে ড্যাপ (ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের একটি সার কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণের জন্য দুই কর্মকর্তাকে দায়ী করেছে এই ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি। বুধবার (৩১ আগস্ট) প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্যাপের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে এই দুর্ঘটনা থেকে প্ল্যান্টটি রক্ষা করা সম্ভব হতো।
ড্যাপের উপপ্রধান প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ)দিলীপ কুমার বড়ুয়া ও জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল অ্যান্ড মেনটেইনেন্স) মোহাম্মদ নকিবুল ইসলামকে ট্যাংক বিস্ফোরণের জন্য দায়ী করা হয়েছে। ড্যাপ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে হালকা দুর্ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্যাসের চাপে ট্যাংকটি ২০ ফুট দূরে ছিটকে পরে ও পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়। ৫০০ টন ধারণ ক্ষমতার ট্যাংকে দুর্ঘটনার সময় ৩৪০ মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া ছিল। পুরোটাই ছড়িয়ে পড়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ড্যাপের ওই দুই কর্মকর্তা তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে এই দুর্ঘটনা থেকে প্ল্যান্টটি রক্ষা করা সম্ভব হতো। সাক্ষ্য, প্রমাণ, লিখিত জবানবন্দি ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা পর্যালোচনায় তদন্ত কমিটি মনে করে, এই দুই কর্মকর্তা দুর্ঘটনার জন্য দায়ী। তারা পদে বহাল থাকলে এই প্ল্যান্টটি কারও জন্যই নিরাপদ নয়। তদন্ত কমিটি তাদের প্রত্যাহার, বিভাগীয় শাস্তি ও আনুতোষিক থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করছে।’
গত ২১ আগস্ট গ্যাস ট্যাংক বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৩ আগস্ট তিন সদস্যের এই তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মমিনুর রশিদকে কমিটির প্রধান করা হয়। অন্য দুই সদস্য হলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ারা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কর্ণফুলী থানা।
তদন্ত প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে বলা হয়, অ্যামোনিয়া ট্যাংকে নিরাপত্তার জন্য পাঁচ ধরনের সুরক্ষা যন্ত্র রয়েছে। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় এই সবগুলো সুরক্ষা যন্ত্র অকেজো ছিল।
এর মধ্যে ট্যাংকে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য কুলিং/রেফ্রিজারেশন কমপ্রেশার সিস্টেম তিন বছরের বেশি সময় ধরে নষ্ট ছিল। ট্যাংকে রক্ষিত গ্যাসের চাপ মাপার জন্য দুটি প্রেশার গজ রয়েছে। যা দীর্ঘদিন যাবত নষ্ট।
ট্যাংকে রক্ষিত অতিরিক্ত গ্যাস বের করে দেওয়ার জন্য দুই প্রেশার ভেন্ট রয়েছে। দুর্ঘটনার সময় দুটিই বন্ধ ছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ট্যাংকে ফ্লেয়ার সিস্টেম আছে। দুর্ঘটনার সময় সেটিও অকেজো ছিল।
ট্যাংকের চাপ ও তাপ মাপার জন্য স্বয়ংক্রিয় ডিসিএস সিস্টেম রয়েছে। এই সিস্টেম দুটি প্রেশার ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে ট্যাংকের গ্যাসের চাপ দুটি কম্পিউটারে দেখা যায়, যার একটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট এবং অন্যটি দুর্ঘটনার আগের দিন থেকে নষ্ট ছিল।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘এই তদন্ত প্রতিবেদন বিষয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারকে অবহিত করবেন। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিবকে সুপারিশ করবেন দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ’
এই প্রতিবেদনের জন্য ড্যাপের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর জবানবন্দি নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, ২১ আগস্ট রাত পৌনে ১১টার দিকে ড্যাপ (ডাইঅ্যামোনিয়াম ফসফেট) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের একটি সার কারখানার অ্যামোনিয়া গ্যাস ট্যাংক লিকেজ হয়ে আশেপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে অসুস্থ হয়ে প্রায় ৬০ ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হন। কারাখানাটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান। এটি কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরবর্তী আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়ায় অবস্থিত। ২০০৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর কারখানাটি উৎপাদনে আসে।
আরও পড়ুন-
হোটেলে নাস্তা করতে গিয়েই ধরা খেলো ওবায়দুল
প্রাণভিক্ষার সিদ্ধান্ত জানাতে সময় চেয়েছেন মীর কাসেম
/এফএস/ এপিএইচ/







