আজিমপুরে নিহত জঙ্গির পূর্বপুরুষ পাকিস্তানের

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ১৪:১৭আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬, ০৮:৪৯

  জঙ্গি তানভীর

রাজধানী ঢাকার আজিমপুরে নিহত জঙ্গি তানভীর কাদেরী ওরফে শিপারের পূর্বপুরুষ ছিলেন পাকিস্তানের নাগরিক। তার দাদা মরহুম আলহাজ মওলানা আব্দুল ওয়াহেদের বাড়ি ছিল পাকিস্তানের পেশোয়ারে। আনুমানিক ১৯১০ সালে বাংলাদেশে তাবলীগ করতে এসে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বিয়ে করে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরে তার বাবা আলহাজ এস এম বাতেন কাদেরী গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের পশ্চিম বাটিকামারি গ্রামের স্থায়ী হন।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান পরিবারের বরাত দিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ছেলের লাশ গ্রহণ করলেও তা গাইবান্ধায় নিয়ে যাবেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন নিহত জঙ্গির বাবা বাতেন কাদেরী।

শুক্রবার তিনি বলেন, ‘পরিবারের কেউ লাশ নিতে রাজি নন। তবে বাবা হিসেবে ছেলের লাশ দাফন করা কর্তব্য। তাই ইসলামী নিয়ম অনুযায়ী ছেলের লাশ দাফন করতে চাই। কোথায় দাফন করবো সেটা লাশ পাওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেবো।’

গাইবান্ধায় জঙ্গি তানভীরের পৈত্রিক বাড়ি

পরিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে সপরিবারে হজ করে আসার পর বাবা-মাসহ অন্যরা শিপারের মধ্যে ধর্মীয় উগ্রতা লক্ষ্য করেন। তবে তানভীরের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার বিষয়টিও মানতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

সূত্রটি আরও জানান, তানভীর গাইবান্ধা সরকারি বালক বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে এসএসসি এবং ‘৯৬ সালে গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। পরে ঢাকা কলেজ থেকে হিসাব বিজ্ঞানে স্নাতক পাসের পর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাস করেন। এরপর তিনি ডাচ-বাংলা ব্যাংকে চাকরি পান। ২০১৪ সালে হজ থেকে ফিরে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর তানভীর আল সাকিনা হোম ডেলিভারি সার্ভিস নামে একটি ব্যবসা শুরু করেন।

তানভীর ২০০১ সালের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইলের ব্যাংক কর্মকর্তা আবদুল তাওয়াতের মেয়ে আবেদাতুল ফাতেমাকে বিয়ে করেন। আবেদাতুল ফাতেমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া শেষ করে সেভ দ্য চিলড্রেনে চাকরি করতেন। তাদের যমজ ছেলে আছে। দুই ছেলেই ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

আজিমপুরে নিহত জঙ্গির পূর্বপুরুষ পাকিস্তানের

তানভীরের সহপাঠী মাহমুদুর রশিদ রাসেল জানান, ছাত্রজীবন থেকেই বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা হলে তানভীর বলতো এদেশে সঠিকভাবে ধর্ম মানা হয় না।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মেহেদী হাসান শুক্রবার জানান, সোমবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় নিহত জঙ্গির বাবা আলহাজ, বড় বোন তানজিলা বুলবুল কাদেরী ও ভগ্নিপতি জিয়া ইসলামকে গাইবান্ধা সদর থানায় ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে বিকাল সাড়ে ৫টায় তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারা নিহত জঙ্গির ছবি ও অন্যান্য বিষয়বস্তু দেখে-শুনে তানভীরের পরিচয় নিশ্চিত করেন।

ওসি আরও জানান, তানভীরের নামে গাইবান্ধা সদর থানায় আগে কোনও মামলা ছিল না।

শুক্রবার পশ্চিম বাটিকামারি গ্রামে গিয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা হেছে, তানভীরের বাবা আগে বাংলাদেশ টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ বিভাগে চাকরি করতেন। পরে চাকরি ছেড়ে তিনি দীর্ঘদিন মধ্যপ্রাচ্যেও ছিলেন। তবে এখন জর্দার ব্যবসা করেন।

প্রসঙ্গত, ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানের সময় তানভীর মারা যায়। তার সাংগঠনিক নাম ছিল আব্দুল করিম।

আরও পড়ুন: সাকিবকে নামিয়ে ফেরার পথে হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, নিহত ১

/এফএস/এসটি/

 

 

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয়ে ৭.৫% কর নেওয়ার অভিযোগ, স্পষ্ট করার দাবি সারজিসের
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
ভাতের সঙ্গে জমবে মজাদার সরষে সবজি
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান হিজবুল্লাহর, চলছে ইসরায়েলি হামলা
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্তিতে জোর দেবে নতুন বিএসইসি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী