বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চার ইন্টার্ন চিকিৎসককে শাস্তি দেওয়ায় চতুর্থ দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করছেন তাদের সহকর্মীরা। রবিবার সকালে তারা বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে ক্যাম্পাসে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। এদিকে, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনুপস্থিতিতে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। ফলে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, আট সদস্যের দুটি মনিটরিং টিম সার্বক্ষণিক কাজ করায় ও চিকিৎসকরা তৎপর হওয়ায় চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রয়েছে।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের এক রোগীর স্বজনদের মারপিটের ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মী চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশিপ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্নশিপ শেষ করতে হবে। গত বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের এ সিদ্ধান্ত জানাজানি হলে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা জরুরি বৈঠক করে ওইদিন সন্ধ্যা থেকে অঘোষিত কর্মবিরতি শুরু করেন।
ইন্টার্নদের মুখপাত্র ও শাস্তিপ্রাপ্ত ইন্টার্ন ডা. কুতুব উদ্দিন জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে তাদের যে শাস্তি দেওয়া হয়েছে তা অযৌক্তিক ও অন্যায়। তারা কোনও অন্যায় কাজ করেননি। তিনি এ জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘শাস্তি দিলে দু’পক্ষকেই দেওয়া উচিত ছিল। একটি বিশেষ এলাকার লোক হওয়ায় রোগীর স্বজনদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। লিখিতভাবে শাস্তি প্রত্যাহার করলেই আমরা কাজে ফিরে যাব।’
হাসপাতালের সার্জারি, মেডিসিনসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বগুড়ার শেরপুরের চান্দাইকোনা থেকে আসা আমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার সড়ক দুর্ঘটনায় আহত মাকে নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। রবিবার দুপুর পর্যন্ত মায়ের ভেঙে যাওয়া আঙুল, প্লাস্টার ও শরীর থেকে কাঁচ বের করা হয়নি।
বগুড়া গাবতলীর আবদুর রহমান জানান, অসুস্থ চাচাকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে ভর্তি করেছেন। দিনের বেলা চিকিৎসকরা দেখলেও রাতে কেউ খোঁজ নেয়নি। তবে নার্সরা সার্বক্ষণিক দেখাশোনা করছেন।
বগুড়া সদরের ধাওয়াপাড়া থেকে বহিঃবিভাগে সেবা নিতে আসা রোকেয়া বেগম জানান, দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পরে জানিয়ে দেওয়া হয় মানববন্ধন কর্মসূচির জন্য বেলা ১২টার আগে কোনও টিকেট দেওয়াসহ রোগী দেখা হবে না। শহরের চেলোপাড়া থেকে আউটডোরে চিকিৎসা নিতে আসা রেজাউল জানান, তার শিশুর চিকিৎসার জন্য আউটডোরে গেলেও বলা হয় ১২টার আগে টিকেট দেওয়া হবে না।
জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মাইকেল ডেভিড জানান, গত চার দিনে পর্যায়ক্রমে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। বুধবার (১ মার্চ) জরুরি বিভাগে ১৫৩ জন, বৃহস্পতিবার ১৫৪ জন, শনিবার ২২৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
জরুরি বিভাগে কতর্বরত চিকিৎসক শরিফুল রেজোয়ান জানান, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা না থাকায় তাদের অতিরিক্ত সময় দিতে হচ্ছে হাসপাতালে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেডিক্যাল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, সকাল ১০টার দিকে এক ঘণ্টার জন্য তাদের ক্লাস থেকে মানববন্ধনে নিয়ে আসা হয়। ফোন না ধরায় এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম আহসান হাবীবের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শজিমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী জানান, ৫০০ শয্যার এ হাসপাতালে রবিবার রোগীর সংখ্যা ছিল এক হাজার সাতজন। ইন্টার্নরা তাদের দাবি আদায়ে মানববন্ধন ও মিছিল করেছে। তারা কাজে যোগ না দিলেও চিকিৎসকরা তৎপর থাকায় রোগীদের কোনও দুর্ভোগ হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, চার ইন্টার্নের শাস্তি দেওয়া সংক্রান্ত কোনও কাগজ রবিবার দুপুর পর্যন্ত হাতে পাননি।
/বিএল/
আরও পড়ুন:








