নীলফামারী জেলার একমাত্র বাণিজ্যিক শহর সৈয়দপুর। পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে শহরে ব্যস্ত সময় পার করছে ক্ষুদ্র পোশাক প্রস্ততকারী গার্মেন্টস শ্রমিকরা।এরইমধ্যে তৈরি পোশাকের ব্যাপক মজুদ গড়ে তুলছে ব্যবসায়ীরা।
তৈরি পোশাকের মধ্যে রয়েছে হাফশার্ট, ফুলসার্ট, ফুলপ্যান্ট, থ্রি কোয়াটার, টাউজার, মেয়েদের বোরকাসহ নানা ধরনের পোশাক। এখানে তৈরি পোশাক তুলনামূলকভাবে কম দাম হওয়ায় পাশের জেলার পাইকারি ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা বেশি।
সরেজমিন দেখা যায়, বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পোশাক তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে। কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ সেলাই করছেন, কেউ পোশাক প্যাকেট করছেন। রমজানের শুরু থেকে অতিরিক্ত শ্রম (ওভার টাইম) দেন তারা।
দর্জি শফিকুল ইসলাম বলেন, বছরের অন্য সময়ের তুলনায় দুই ঈদ আর দুর্গাপুজার সময় বাড়তি কাজের চাপ থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। ওভার টাইম করে যে অতিরিক্ত মজুরি পাই, তা ছেলে-মেয়েদের লেখা পড়ার খরচসহ সংসারের কাজে লাগে।
পোশাক প্রস্ততকারি গার্মেন্টস মালিক আব্দুস সালাম বলেন, এবারের ঈদে আমরা স্থানীয় বাজারের দিকে তাকিয়ে আছি। কারণ এ বার সৈয়দপুরের তৈরি পোশাক নানা কারণে প্রতিবেশি দেশ ভারতে রফতানি হচ্ছে না।
তবে জেলার ছয় উপজেলা ছাড়াও রংপুর, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, পঞ্চগড়, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্দায় এখানকার তৈরি পোশাক নিয়ে যান পাইকাররা।
একই বাজারের আরেক মালিক আজগার আলী বলেন, ঈদের বাজার এখনো তেমন জমে উঠেনি। আর কয়েকদিন পর পুরোদমে জমে উঠবে ঈদের বাজার। আশা করছি লাভ ভালোই হবে।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতি ও গার্মেন্টস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম বলেন, বিভিন্ন কারণে পোশাক রফতানি বন্ধ থাকায় আমরা স্থানীয় বাজারের দিকে তাকিয়ে রয়েছি।
আসছে ঈদে সৈয়দপুর থেকে সাড়ে চার কোটি টাকার পোশাক বিক্রি হওয়ার আশা করছেন পোশাক প্রস্ততকারী প্রতিষ্ঠানের মালিকরা।
গার্মেন্টস পণ্যের রফতানি কারক ও নীলফামারী চেম্বারের অব কমার্সের নির্বাহী সদস্য মতিয়ার রহমান দুলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এসব পণ্য ভারত, নেপাল, ভুটানসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। তবে নানা কারণে এবারের ঈদে এসব পোশাক বাহিরের দেশে যাচ্ছে না।
/জেবি/
আরও পড়তে পারেন: সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় ৩ জেলে গ্রেফতার







