বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে পানি ১৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। ৬টি ইউনিয়নে পানি ঢুকে পড়ায় অন্তত ১৮ গ্রামের তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বন্যা কবলিত মানুষজন বিশুদ্ধ পানির অভাব ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এদিকে ইতোমধ্যে জলাবদ্ধ ৩৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৭টি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দুর্গতদের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে বরাদ্দ করা চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সারিয়াকান্দি উপজেলায় যমুনা নদীতে পানি বেড়েই চলেছে। এতে কুতুবপুর, কামালপুর, চন্দনবাইশা, কর্ণিবাড়ি, কাজলা ও চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নে পানি ঢুকছে। বিভিন্ন গ্রামের অন্তত তিন হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকে সহায়-সম্বল নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। ৩৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ১৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি উচ্চ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যা দুর্গতরা বিশুদ্ধ খাবার পানির সংকটে রয়েছেন।
এদিকে বগুড়ার ডিসি নুরে আলম সিদ্দিকী দুর্গত এলাকার জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছেন। সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান জানান, শনিবার সকাল থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল মান্নান বন্যা দুর্গত চন্দনবাইশা, কামালপুর ও কুতুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ১ হাজার পরিবারের মধ্যে ২০ কেজি করে প্রায় ২০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করেছেন। এছাড়া রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ১৪৪ পরিবারের মধ্যে ৫ হাজার টাকা করে বিতরণ করেছে।
অন্যদিকে পার্শ্ববর্তী ধুনট উপজেলার যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী হারুনার রশিদ জানান, শনিবার সকালে নদীতে পানি বিপদ সীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। স্থানীয়রা জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ভান্ডারবাড়ি ইউনিয়নের রাধানগর, শহরাবাড়ি, শিমুলবাড়ি বৈখাশী, ভুতবাড়ি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে শিমুলবাড়ি, কৈয়াগাড়ি ও শহরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ করা হয়েছে।
/এফএস/
আরও পড়ুন- সেলফির জন্য ত্রাণ!








