ক্লাসে ঘুমিয়ে থাকার অভিযোগে সিলেটের জকিগঞ্জের খলাছড়া স্কুলের শিক্ষিকা দীপ্তি বিশ্বাসকে শোকজ করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। একই সঙ্গে উপজেলার আরও ছয়টি স্কুলের ছয়জন শিক্ষিকাসহ ১০ জনকে শোকজ করা হয়েছে। মঙ্গলবার উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে এ শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ক্লাসে ঘুমন্ত অবস্থার ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করায় গত ২৩ অক্টোবর শিক্ষিকার স্বামী সুবিনয় মল্লিক থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে চেয়ারম্যানসহ তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়। তবে এখনও এ বিষয়ে কোনও অগ্রগতি হয়নি।
জকিগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রফিজ মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গত ১৮ অক্টোবর উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরিদর্শন শেষে ৬টি বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের শোকজ করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৪ অক্টোবর) শিক্ষক-শিক্ষিকাদের কাছে শোকজের নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ক্লাস চলাকালীন সময়ে গাফিলতি, ক্লাসে ঘুমানোসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেন চেয়ারম্যান।’
এদিকে শিক্ষিকা দীপ্তি বিশ্বাসের স্বামী সুবিনয় মল্লিক বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে শোকজের কোনও চিঠি আমরা পাইনি। এ বিষয়ে আমাদের নানাভাবে হয়রানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পরও পুলিশ এখনও তা রেকর্ড করেনি। আমি সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
সিলেটের জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্তকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান হাওলাদার জানান, স্কুল শিক্ষিকার স্বামী সুবিনয় মল্লিকের দায়ের করা অভিযোগটি পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৮ অক্টোবর সিলেটের জকিগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মডেল টেস্টের দায়িত্ব পালনের সময় স্কুলশিক্ষিকা দীপ্তি বিশ্বাস টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ক্লাস পরিদর্শনে যান স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান ইকবাল আহমদ। এ সময় সঙ্গে থাকা লোকজন চেয়ারম্যানের মোবাইলে ছবি তোলেন এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেন। যা ভাইরাল হয়ে যায়।
যদিও পরবর্তীতে দীপ্তি বিশ্বাস অসুস্থ ছিলেন বলে দাবি করেন তার স্বামী সুবিনয় মল্লিক।
আরও পড়ুন:
‘অসুস্থ শিক্ষিকার ঘুমন্ত ছবি ছড়িয়ে দিয়ে এ কোন দায়িত্বশীলতা!’ (ভিডিও)








