টেকনাফের ব্যবসায়ীকে অপরহণের পর মুক্তিপণের টাকাসহ সেনাবাহিনীর হাতে আটক জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাত সদস্যকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোশারফ হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন। বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, তারা এখন কক্সবাজার কারাগারে রয়েছেন। এ ঘটনায় জেলা পুলিশের ৭ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করে, পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ডিবি পুলিশের সদস্যরা হলেন, এসআই মনিরুজ্জামান, এসআই আবুল কালাম আজাদ, এসআই ফিরোজ, এএসআই মোস্তফা, এএসআই আলাউদ্দিন, সিপাহী আলামিন ও সিপাহী মোস্তফা আজম।
টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাইন উদ্দিন জানান, টেকনাফের ব্যবসায়ী ভিকটিম আব্দুল গফুর বাদী হয়ে অভিযুক্ত ডিবি পুলিশের ৭ সদস্যকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানায় দায়ের করে তাদের বৃহস্পতিবার সকালে কক্সবাজার আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
টেকনাফ মধ্যম জালিয়াপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরের ভাই টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর মনিরুজ্জামান জানান, ডিবি পুলিশের অত্যাচারে উখিয়া-টেকনাফের সাধারণ মানুষ অতিষ্ট। আজ আমার ভাইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ নিয়েছে, কাল অন্য জনের কাছ থেকে মুক্তিপণ নিবে। এজন্য কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতে হবে। এ কারণে মামলাটি করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত গতকাল (২৫ অক্টোবর) ভোর রাতে টেকনাফে ব্যবসায়ী আব্দুল গফুরকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা আদায় করার পর একটি মাইক্রোবাসে কক্সবাজারে যাওয়ার পথে চেকপোস্টে তল্লাশির সময় টাকাসহ সাত পুলিশকে আটক করে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এ সময় ডিবি পুলিশের এক এসআই পালিয়ে যায়। উদ্ধার করা টাকা ওই ব্যবসায়ীকে ফেরত দেওয়া হয়েছে। এঘটনায় জেলা পুলিশ তাদের সাময়িক বরখাস্ত করে এবং ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।
আরও পড়তে পারেন: সড়ক দুর্ঘটনায় রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স চালক নিহত








