অপহরণ ও গুমের অভিযোগে ১৬ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

যশোর প্রতিনিধি
১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:৩৬আপডেট : ১৪ নভেম্বর ২০১৭, ১৫:৩৭

যশোর যশোর কোতোয়ালি থানার সাত পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১৬ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন হিরা খাতুন নামে এক নারী। অপহরণের পর টাকা দাবি এবং টাকা না পেয়ে তার ছেলেকে গুম করা হয়েছে সন্দেহে এ মামলা করেন তিনি। আদালত এ ব্যাপারে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

অভিযুক্তরা হলেন- যশোর কোতোয়ালি থানার এসআই এইচএম শহিদুল ইসলাম, এসআই আমির হোসেন, এসআই হাসানুর রহমান, এএসআই রাজন গাজী, এএসআই সেলিম মুন্সি, এএসআই বিপ্লব হোসেন, এএসআই সেলিম আহম্মেদ, কনস্টেবল আরিফুজ্জামান, কনস্টেবল রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. রমজান, কনস্টেবল হাবিবুর রহমান, কনস্টেবল আবু বক্কার, কনস্টেবল মিজান শেখ, কনস্টেবল মাহমুদুর রহমান, কনস্টেবল রাজিবুল ইসলাম ও কনস্টেবল টোকন হোসেন।

যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার হিরা খাতুন মামলার বিবরণে উল্লেখ করেন, গত ৫ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে তার একমাত্র ছেলে সাইদ ও তার বন্ধু শাওন শহরের পৌরপার্কে বেড়াতে যান। ওই দিন বেলা ১২টার দিকে সাব্বির হোসেন নামে এক যুবক তাকে মোবাইল ফোনে জানায় যে পুলিশ সাইদ ও শাওনকে আটক করেছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পৌর পার্কে যান এবং দেখতে পান যে সাইদ ও শাওনকে পুলিশ গাড়িতে করে নিয়ে যাচ্ছে। এসময় তিনি দৌড়ে গাড়ির কাছে গিয়ে পুলিশের কাছে আটকের কারণ জানতে চাইলে তারা তাকে থানায় গিয়ে কথা বলতে বলেন। পরে থানার সামনে গিয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বসে থাকলেও তাকে থানায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। সন্ধ্যা সাতটার দিকে দুই পুলিশ সদস্য তাকে ডেকে ছেলেকে ছাড়ানোর জন্য দুই লাখ টাকা দাবি করেন।

এরপর ৭ এপ্রিল হিরা খাতুন জানতে পারেন যে, তার ছেলে সাইদ ও শাওন পুলিশের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি থানায় গিয়েও এ বিষয়ে কিছু জানতে পারেননি। পরে কোর্টে গিয়ে জানতে পারেন যে পুলিশ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় একটা মামলা করেছে। এরপর তার ছেলের সন্ধানে তিনি বারবার পুলিশের কাছে গেলেও তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ছেলে ও ছেলের বন্ধুর কোনও খোঁজ মেলেনি। দুই লাখ টাকা ঘুষ না পেয়ে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলে ও ছেলের বন্ধুকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ ও তাদের লাশ গুম করে ফেলেছে বলে সন্দেহ করছেন হিরা খাতুন। সে কারণে তিনি আদালতে মামলা করছেন।

মামলার আইনজীবী অজিত কুমার দাস জানান, সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতের বিচারক শাহিনুর রহমান পিটিশনটি গ্রহণ করে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে, যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার বলেন, ‘বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি মহল মিথ্যা ও কাল্পনিক অভিযোগে মামলা করেছে। যেহেতু আদালত অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তাই তদন্ত শেষ হলেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।’

 

/এফএস/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
আসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
শিশু রামিসা হত্যা মামলাআসামিপক্ষের আইনজীবী নিয়ে সমালোচনা, যা বললেন মূসা কালিমুল্লাহ
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী