ঢাকার আইডিয়াল ‘ল’ কলেজের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা রুপাকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে টাঙ্গাইল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আবুল মনসুর মিয়া মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। পাঁচ পরিবহন শ্রমিকের বিরুদ্ধে আনা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের নির্ধারিত তারিখ ছিল আজ (৩ জানুয়ারি)। টাঙ্গাইল আদালতের পরিদর্শক আনোয়ারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, এসময় আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্যগ্রহণের প্রথম দিন ৯ জন সাক্ষি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বুধবার মামলার বাদী মধুপুর অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলামের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। পরে আদালত মামলার পরবর্তী তারিখ দেন আগামী ৭ জানুয়ারি।
আসামিরা হলো, ছোঁয়া পরিবহনের সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫), জাহাঙ্গীর (১৯) এবং চালক হাবিবুর (৪৫) ও সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫)।
চার্জশিটে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের (সংশোধিত ২০০৩) ৯ এর তিন ধারায় গণধর্ষণের অভিযোগ, দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় হত্যার অভিযোগ, ২০১ ধারায় লাশ গুমের অভিযোগ এবং ৩৪ ধারায় সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে ৩২ জনকে সাক্ষি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলিশ ও চিকিৎসকসহ পাঁচ-ছয় জন সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন।
উল্লেখ, গত ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে রুপা খাতুনকে চলন্ত বাসে পরিবহন শ্রমিকরা ধর্ষণ করে। পরে তাকে হত্যা করে টাঙ্গাইলের মধুপুর বন এলাকায় ফেলে রেখে যায়। পুলিশ ওই রাতেই তার লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্ত শেষে পরদিন বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় গোরস্তানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় অরণখোলা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। রুপার ভাই ২৮ আগস্ট মধুপুর থানায় এসে লাশের ছবি দেখে রুপাকে সনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ছোঁয়া পরিবহনের চালক হাবিবুর (৪৫), সুপারভাইজার সফর আলী (৫৫) এবং সহকারী শামীম (২৬), আকরাম (৩৫) ও জাহাঙ্গীরকে (১৯) গ্রেফতারর করে। পুলিশের কাছে তারা রুপাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে। গত ২৯ আগস্ট বাসের তিন সহকারী শামীম, আকরাম, জাহাঙ্গীর এবং গত ৩০ আগস্ট চালক হাবিবুর ও সুপারভাইজার সফর আলী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে আসামিরা সবাই টাঙ্গাইল কারাগারে আছে।
গত ৩১ আগস্ট রুপার লাশ উত্তোলন করে তার ভাইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে সিরাজগঞ্জের তারাস উপজেলার নিজ গ্রাম আসানবাড়িতে নিয়ে দাফন করা হয়। গত ১২ সেপ্টেম্বর ময়নাতদন্তকারি চিকিৎসক সাইফুর রহমান খান ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন জমা দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন মাথায় আঘাত জনিত কারণে রুপার মৃত্যু হয় এবং মৃত্যু আগে রুপাকে ধর্ষণ করা হয়।
আরও পড়ুন: সাতক্ষীরায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার, গ্রেফতার ১







