ভোলার মনপুরায় স্কুল লাইব্রেরিতে শিক্ষিকাকে ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষিকার স্বামী। ঘটনার ৬ দিন পার হলেও এখনো ওই নেতাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তাকে গ্রেফতার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক নেতারা।
এদিকে ঘটনার পাঁচ দিন পর অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা এনাম হাওলাদারকে উপজেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
শিক্ষিকার স্বামী বলেন, ‘অভিযুক্ত এনাম গত তিন দিন ধরে মোবাইলে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে সাত দিনের মধ্যে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। মামলা না উঠালে এবার ঠিকই ধর্ষণ করবে বলে হুমকি দিয়েছে। ঘটনার পর থেকে ভয়ে আমার স্ত্রী (শিক্ষিকা) মোবাইল বন্ধ করে রেখেছেন। এমনকি নিজ কর্মস্থল হারিচ রোকেয়া বিদ্যালয়েও যাচ্ছেন না। এদিকে শিক্ষা অফিস উপজেলা পর্যায়ে ৬ দিনের ট্রেনিংয়ের ব্যাবস্থা করেছে। সে ভয়ে ওই ট্রেনিংয়েও যেতে চাচ্ছে না। পরে আমি তার সঙ্গে ট্রেনিং যাব বলায় সে রাজি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে আটক করতে না পারায় আমাদের পুরো পরিবার ভয়ে আছে।’
হারিচ রোকেয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শফি উল্লা জানান, সেই ছাত্রলীগ নেতা জোর পূর্বক স্কুলের চিলেকোটায় থাকতো। তার ভয়ে কথা বলা যেতো না। ঘটনার পর প্রশাসনের সহায়তায় তার দখল করা চিলেকোটা উদ্ধার করা হয়েছে।
উপজেলা শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান জানান, সেই ছাত্রলীগ নেতা মামলা উঠানোর জন্য তাদের হুমকি দিচ্ছে বলে শিক্ষিকার স্বামী আমাকে জানিয়েছেন। শিক্ষিকাকে ডেপুটেশেনে অন্যত্র পাঠানো হবে। ছাত্রলীগ নেতার দখলকৃত চিলেকোটাও উদ্ধার করা হয়েছে।
মনপুরা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মনোয়ারা বেগম জানান, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা এখন পর্যন্ত গ্রেফতার না হওয়ায় পুরো শিক্ষক সমাজ মর্মাহত। পুলিশ অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতাকে দ্রুত গ্রেফতার না করলে তারা আন্দোলন করবেন বলে জানান।
মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন খান জানান, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে ২ এপ্রিল মামলা করা হয়েছে। এছাড়াও তাকে গ্রেফতার করতে পুলিশের একটি টিম কাজ করছে। তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।








