ভোলায় মুসলিম ঐক্য পরিষদের দোয়া সমাবেশ ফের স্থগিত

Send
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৪১, নভেম্বর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৫৬, নভেম্বর ২৩, ২০১৯

ভোলার বোরহানউদ্দিনে ফেসবুকে ধর্মীয় অবমাননা বিষয়ক পোস্টের পর সংঘর্ষে চার জন নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের ডাকা দোওয়া মাহফিল ও সমাবেশ ফের স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (২৩ নভেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। এর আগে আরও তিন দফা ওই দোয়া সমাবেশ স্থগিত করা হয়। জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের প্রচার সম্পাদক মাওলানা নূরুল আমিন আশ্রাফী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বিপ্লব চন্দ্র শুভর সর্বোচ্চ শাস্তি, বোরহানউদ্দিনের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে পুলিশের গুলিতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার বিভাগীয় তদন্ত স্বাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, অনতিবিলম্বে হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেফতারদের নিঃশর্ত মুক্তিসহ ৬ দফা দাবি নিয়ে ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদ ধারাবাহিক কর্মসূচি ও প্রশাসানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ভোলায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও মিছিল-মিটিংয়ে প্রশাসিনক বাধা ও নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইতোপূর্বে আমরা কিছু কর্মসূচি স্থগিত করেছি।’

ভোলার পুলিশ সুপার সরকার মো. কায়সার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের পক্ষে শনিবার ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দোয়া মাহফিল করার আবেদন করা হয়েছিল। সার্বিক দিক বিবেচনা করে অনুমতি দেওয়া হয়নি।’ এদিকে শুক্রবার ভোলা শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন ছিল বলে জানান তিনি।

সর্বশেষ গত ১৭ নভেম্বর ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে ভোলা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ৬ দফা দাবি আদায়ের লক্ষে স্মারকলিপি প্রদান করে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ অক্টোবর নিজের ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার অভিযোগে ভোলার বোরহানউদ্দিন থানায় জিডি করেন বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য (২৫) ওরফে শুভ। তার অ্যাকাউন্টের ম্যাসেঞ্জার থেকে ‘মহানবীকে নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য’ ছড়িয়ে সেই ‘স্ক্রিনশট’ ব্যবহার করে বোরহানউদ্দিনে উত্তেজনা সৃষ্টির অভিযোগ করা হয়। পুলিশ বিপ্লবের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের প্রমাণ পায় এবং দুই জনকে গ্রেফতার করে। তবে ফেসবুকে কথিত বক্তব্যের জেরে একটি পক্ষ উত্তেজনা ছড়ায়। রবিবার (২০ অক্টোবর) সকাল ১১টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা সদরের ঈদগাহ মাঠে প্রতিবাদ সভার ঘোষণা দেওয়া হয়। পুলিশ সেখানে সতর্ক অবস্থান নিলেও একটি গ্রুপ ঈদগাহ ময়দানে প্রবেশ করে মানুষকে উত্তেজিত করতে থাকে এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পরে ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি চালায়। এতে চার জন নিহত হন। আহত হন ১০ পুলিশসহ প্রায় দেড়শতাধিক লোক।

এ ঘটনায় বিপ্লব চন্দ্র শুভ ও তার আইডি হ্যাককারী আরও দু’জনকে আটক করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে অজ্ঞাত পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়া হিন্দুদের বাড়ি ও মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় মন্দির কমিটি পাঁচশ’ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। এ ঘটনায় তিন মামলায় বর্তমানে ১৩ জন জেলা হাজতে রয়েছে।

/এআর/

লাইভ

টপ