এমপির গাড়িতে পেট্রোল না দেওয়ায় ফিলিং স্টেশনে বিক্রি বন্ধ

Send
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:২৫, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:২৯, ডিসেম্বর ০২, ২০১৯

ফিলিং স্টেশনের সামনে এলোপাতাড়ি ট্রাক ও পিকআপ ধর্মঘট চলার সময় গাড়িতে পেট্রোল না দেওয়ায় ঠাকুরগাঁও শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগের দিন রবিবার সাবেক মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এমপি রমেশ চন্দ্র সেনের গাড়িতে তেল না দেওয়ায় এমপিপন্থী মোটর শ্রমিকেরা আজ সোমবার (২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ফিলিং স্টেশনটির সামনে এলোপাতাড়ি ট্রাক ও পিকআপ রেখে পেট্রোল বেচাকেনা বন্ধ করে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও সফর শেষে রবিবার বিকালে ঢাকা যাওয়ার জন্য সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পথে রওনা দেন রমেশ চন্দ্র সেন। পথে তাকে বহনকারী গাড়িসহ আরেকটি গাড়ি শহরের চৌধুরী ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নেওয়ার জন্য যায়। কিন্তু ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা ধর্মঘটের কথা বলে গাড়ি দুটিতে পেট্রোল দিতে অস্বীকৃতি জানান। ওই সময় একটি গাড়িতে এমপি রমেশ চন্দ্র সেন বসেছিলেন। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে আরেকটি ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিয়ে সৈয়দপুরের দিকে রওনা দেয় এমপির গাড়ি। এ ঘটনায় সোমবার বিকাল সাড়ে চারটার দিকে পরিবহন শ্রমিকেরা চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের সামনে এলোপাতাড়ি ট্রাক ও পিকআপ রেখে পেট্রোল বেচাকেনা বন্ধ করে দেন।
পরিবহন শ্রমিক শাহজাহান বলেন, ‘রমেশ চন্দ্র সেন আমাদের অভিভাবক, এলাকার এমপি, মন্ত্রীও ছিলেন। তাই তাকে অসম্মান করায় আমরা কোনও গাড়িকে এই পাম্প থেকে তেল নিতে দিচ্ছি না, দেবো না।’
স্থানীয় ট্রাক, ট্যাংকলরি, কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. জয়েনুদ্দীন বলেন, ‘এলাকার এমপি নিজে একটি পাম্পে পেট্রোল নিতে গিয়েছেন। আর কর্মচারীরা তাকে পেট্রোল না দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন। এটা করে ওই পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ তাকে অসম্মান করেছে। এ ঘটনায় এমপির অনুসারী শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তাই তারা পাম্পটির যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে চৌধুরী ফিলিং স্টেশনের কর্মী অটল রায় বলেন, ‘আমাদের মালিকের নির্দেশ ছিল যেন কাউকে তেল না দিই। রমেশ এমপির গাড়ি যখন এখানে পেট্রোল নিতে আসে, সে সময় অনেক মোটরসাইকেল চালক ও বাস ট্রাককে আমরা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম পেট্রোল ও ডিজেল না দিয়ে। পেট্রোল দিতে অস্বীকার করায় উপস্থিত কয়েকজন মোটরসাইকেল আরোহী এমপির গাড়ি দেখিয়ে বলেন, ‘দেখবো আপনারা ওনার গাড়িতে পেট্রোল দেন কিনা। এ কথা শুনে জনরোষের ভয়ে এমপির গাড়িতে পেট্রোল দিতে রাজি হইনি।’
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ঠাকুরগাঁওয়ের সভাপতি এনামুল হক বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। কর্মবিরতি আমাদের মালিক-শ্রমিক সমিতির যৌথ সিদ্ধান্ত। কর্মসূচি চলাকালে এমপির গাড়িতে পেট্রোল নিতে গেলে ওই সময় সেখানে অনেক ক্ষুব্ধ ক্রেতার ভিড় ছিল। তাই বিতরণকর্মীরা এমপির গাড়িতে পেট্রোল দিতে রাজি হননি। পরে আমিই অন্য একটি পাম্প থেকে তাদের পেট্রোল নেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছি। এখন শুনছি, ওই ঘটনা নিয়ে একদল শ্রমিক ক্ষুব্ধ হয়ে পাম্পের কেনাবেচা বন্ধ করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি আর কী বলবো?’
এ বিষয়ে জানতে রমেশ চন্দ্র সেনকে ফোন করে পাওয়া যায়নি।
প্রসঙ্গত, রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে একযোগে জ্বালানি তেল বিক্রির প্রচলিত কমিশন বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে রবিবার সকাল ছয়টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করে ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ, জ্বালানি তেল পরিবেশক সমিতি, পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতিসহ জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। সোমবার বিকালের পর ওই কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

 

/ওআর/

লাইভ

টপ