নামছে না হাওরের পানি, ধান চাষ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

Send
হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৭:৫৪, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৯, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

 

তালিয়ে আছে হাওরবাঁধ দিয়ে মাছ ধরা, অসময়ে অতিবৃষ্টি ও নদীর নাব্য সংকটে সুনামগঞ্জের হাওরগুলোর পানি নামছে না। পানি না কমায় বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে বিলম্ব হচ্ছে বোরো চাষ। সময় মতো বোরো চাষ করতে না পারায় ধান পাকার মৌসুমেও ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

সরেজমিন দেখা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের লালুগোয়ালা এলাকার শনির হাওর ও বৌলার নদীর পানি সমান্তরাল অবস্থায় রয়েছে। তাই হাওরের পানি স্থির।বদপুর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদীর তুলনায় হাওরের গভীরতা বেশি হওয়ায় আপার বৌলাই নদীর পানি হালির হাওরে ঢুকছে। জেলার হালির হাওর, সোনামোড়ল হাওর, পাকনার হাওর, দেখার হাওর, নলুয়ার হাওরসহ ছোট-বড় অর্ধশতাধিক হাওরের পানি স্থির রয়েছে। গতবার এই সময় কৃষকরা চারা রোপণের কাজ শুরু করেছিলেন। এবার পানি না সরায় এখনও বীজতলা তৈরি করতে পারেননি তারা।

জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের কৃষক মো. সোবাহান মিয়া বলেন, ‘এবার কার্তিক মাসে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তাই হাওরের পানি এখনও বেশি, নামতে দেরি হচ্ছে। দেরিতে বোরো আবাদ করতে হবে, তাই ফসল উঠবেও দেরিতে। ফসল ওঠার সময় আগাম বৃষ্টিতে ক্ষেত তলিয়ে যেতে পারে।’হাওরে পানি

উপজেলার বেহেলী গ্রামের চায়ের দোকানদার নৃপেন্দ্র সরকার বলেন, ‘হাওরে অন্য বছরের তুলনায় পানি অনেক বেশি। গতবার এই সময়ে চারা রোপণ করা হয়েছে, অথচ এ বছর বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে।’

চণ্ডিপুর গ্রামের কোরবান আলী বলেন, ‘এবার অসময়ে বৃষ্টির কারণে হাওরে এখনও ৫ থেকে ৮ ফুট পানি। নদী ও হাওরের পানি সমতলে থাকায় হাওরের পানি নামছে না।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর জেলায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এরমধ্যে হাইব্রিড ৩৬ হাজার ৫০০ হেক্টর, উফশি ১ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর ও স্থানীয় জাতের ২ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ করা হবে। এ জন্য ৮ হাজার ৭১৭ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছে, অথচ গত বছর এই সময়ে ১০ হাজার ১২৩ হেক্টর জমির বীজতলা থেকে চারা নিয়ে রোপণ করা হয়েছিল।

বেহেলী ইউপি চেয়ারম্যান অসীম তালুকদার নদী খননের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য নদী খনন করা প্রয়োজন। এটি না হলে সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।’

জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. রবিউল হক মজুমদার বলেন, ‘পানি দেরিতে নামায় বোরো আবাদ অনেক পিছিয়ে গেছে। তাই কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে অল্প সময়ে ফলনশীল জাতের ধান আবাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’হওরের পানিতে মাছ ধরছেন জেলেরা

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মো. রেজাউল কবীর বলেন, ‘হাওরের পানি নিষ্কাশনের জন্য ইতোমধ্যে ফসল রক্ষাবাঁধের কিছু কিছু অংশ কেটে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্লুইসগেটগুলোও খুলে দেওয়া হয়েছে।’

/আইএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ