ভারতে যা আলোচনা করলেন সীমান্তের ৯ জেলার ডিসি

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:৪৩, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪৩, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯




সীমান্ত সংক্রান্ত নানা সমস্যা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের ডিসি-ডিএম পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সম্মেলন শেষে শনিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল। রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ৯ জেলা প্রশাসকসহ ৫৯ জনের প্রতিনিধি দলটি হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে দেশে ফেরে। ভারতের আমন্ত্রণেই গত ৫ ডিসেম্বর তারা সফর করে।

সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, গরু ও মাদক পাচার রোধ, সীমানা পিলার রক্ষণাবেক্ষণ, ছিটমহল, নদীরক্ষা ও স্থলবন্দরগুলোর কার্যক্রম উন্নতি করাসহ নানা ইস্যু নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে জানান তারা।

বৈঠক শেষে দেশে ফিরে প্রতিনিধি দলের প্রধান ও জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশের সীমান্তবর্তী ৯টি জেলা ও ভারতের ৬টি জেলার ডিসি-ডিএম পর্যায়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে সীমান্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান, মাদক পাচার, ফেনসিডিল ও ইয়াবা পাচার, গরুর বিট বা খাটাল, কিছু সীমানা পিলার পরিদর্শন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নতুনভাবে করা ছিটমহল, নদীরক্ষার মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্থল বন্দরগুলোর গতিশীলতা বাড়াতে আলোচনা হয়। তিনি জানান, বিভিন্ন স্থলবন্দর বিশেষ করে হিলি বন্দরের আমদানি-রফতানি বাণিজ্য গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশ অংশে যেসব অফিস রয়েছে, তাদের (ভারতের) অভ্যন্তরে সেসব অফিস নেই, সেগুলো স্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সীমান্তের শূন্যরেখায় বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে তিনি জানান, দুদেশের মধ্যে সম্প্রীতি বৃদ্ধির জন্য খেলাধুলা, পহেলা বৈশাখসহ নানা সাংস্কৃতিক উৎসব একত্রে পালন নিয়ে কথা হয়। এসব উৎসব সীমান্তের শূন্যরেখায় দুদেশের মানুষ যেন মিলেমিশে করতে পারে এবং সীমান্ত হাট নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

নদীর পানি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি জানান, বৈঠকে কিছু নদীর পানি নিয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ করে কুড়িগ্রামের নদীতে পানি আসে ভারতের কোচবিহার থেকে, সেই পানি আসার আগাম খবর দেওয়ার বিষয়ে। বর্তমানে আসাম ও মেঘালয় থেকে এরকম সংবাদ দেওয়া হয়। 

বন্দি হস্তান্তর প্রসঙ্গে তিনি জানান, সাজার মেয়াদ শেষ হওয়া আসামিদের আদান-প্রদানের বিষয়ে আলাপ হয়েছে।

চোরাচালানের বিষয়ে তিনি জানান, যেসব সীমান্ত দিয়ে মাদকসহ অন্যান্য পণ্য চোরাচালান হয়, সেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া স্থাপনের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। তাদের পক্ষ থেকে সীমান্ত হত্যা বন্ধে আমাদের নাগরিকদের সচেতন করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশিরা সীমান্তের শূন্যরেখাসহ উভয় পার্শ্বের ২শ’ মিটারের মধ্যে যেন প্রবেশ না করে। 

এর আগে প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশে প্রবেশের সময় হাকিমপুর পৌরসভার মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত ও হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব তাদের শুভেচ্ছা জানান।

/এনএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ