ট্রিপল মার্ডারের সঙ্গে জড়িত ২ জন পুলিশ হেফাজতে

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:৩৬, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:৫০, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

হত্যার সঙ্গে জড়িত দুই জন

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সাখারী গ্রামে ট্রিপল মার্ডারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ ও র‌্যাব-৮। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা  স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানায়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১টি ছুরি, খোয়া যাওয়া স্বর্ণালংকার ও তিনটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। র‌্যাব-৮ এর কোম্পানি কমান্ডার মেজর সজিবুল ইসলাম এ সব কথা জানান।

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিরা কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। কিন্তু  তদন্তের স্বার্থে সব প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

শনিবার রাতে নিহত মরিয়মের ছেলে সুলতান মাহামুদ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় আটক দুজনকে গ্রেফতার দেখানো হবে বলে জানিয়েছেন বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব ।

গ্রেফতার দুজন হলো, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠী ইউনিয়নের উত্তর রাজপাশা গ্রামের চুন্নু হাওলাদারের ছেলে কবিরাজ জাকির হোসেন ও তার সহযোগী নগরীর সাগরদীর মুন্সিবাড়ী এলাকায় জুয়েল হাওলাদার। 

রবিবার সকালে বরিশাল র‌্যাব-৮ এর সদর দফতরে কোম্পানি কমান্ডার মেজর সজিবুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ও র‌্যাব-৮ যৌথ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জাকির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। প্রথমে জাকির নিজেকে ওই বাড়ির নির্মাণ শ্রমিক দাবি করে। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায় জ্বীন হাজির ও ঝাড় ফুকের মাধ্যমে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা করতে পারে বলে জাকির ওই বাড়ির সবার বিশ্বস্ততা অর্জন করে। শুক্রবার রাতে ওই বাড়িতে জ্বীন আসবে বলে তাদের রাতে দরজা খোলা রাখতে বলে। তার কথায় বাড়ির লোকজন দরজা খোলা রাখে। জাকির রাতে তার এক সহযোগীকে নিয়ে কৌশলে ওই বাড়িতে ঢুকে পর্যায়ক্রমে কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রবের মা, বোন জামাই ও খালাতো ভাইকে হত্যা করে।

 উদ্ধার হওয়া মালামাল

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে র‌্যাব-৮ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জাকিরকে এবং তার দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে অপর আসামি জুয়েল হাওলাদারকে বরিশাল নগরীর পশ্চিম মতাশুর মুহুরী কান্দা এলাকা থেকে আটক করে। আকটকৃত দুইজনই প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। পরে দুজনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী জাকিরের ভাড়া বাড়ি থেকে হত্যাকাণ্ডের পর ওই বাড়ি থেকে আনা স্বর্ণালংকার, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। আলামতসহ গ্রেফতার আসামিদের বানারীপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিব জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে দুই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে পর ওই বাড়ি থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার, তিনটি মোবাইল ফোন ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

বানারাপাড়া থানা সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার রাতে জিজ্ঞাসাবাদে প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী মিসরাত জাহান মিশু জানিয়েছেন শুক্রবার রাতে জাকির ঘরে ঢুকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তার সঙ্গে আরও একজন ছিল। বিষয়টি দেখে ফেলায় জাকির তাকে বিবস্ত্র করে মোবাইলে ছবি ধারণ করে। এমনকি ওই অবস্থায় জাকির তাকে জড়িয়ে ধরেও ছবি তোলে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি কাউকে জানালে ইন্টারনেটে তার ছবি ছড়িয়ে দেবে বলে ভয় দেখায়। ওই রাতে তাকে মোবাইল থেকে জাকিরের মোবাইলে ৫ হাজার টাকা বিকাশ পাঠাতেও বাধ্য করা হয় বলে তিনি জানান।

জিজ্ঞাসাবাদে প্রবাসী আব্দুর রবের ভাইয়ের মেয়ে আছিয়া আক্তার জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর জাকির ও তার সঙ্গে থাকা লোকটি তাকে কোনও কিছু না বলার জন্য ভয়ভীতি দেখায়। কাউকে জানালে জাকির তাকে চালানের মুখে ফেলবে বলে জানায়। জিন চালান দিলে তার কোনওদিন বিয়ে হবে না। আর হলেও সে কোনও দিন সন্তানের মা হতে পারবে না বলে শাসিয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, বরিশালের বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর এলাকার কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রব হাওলাদারের বাড়িতে শুক্রবার মধ্যরাতের পর যে কোনও সময় তিন জনকে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন, প্রবাসীর মা মরিয়ম বেগম, তার বোনের ছেলে মো. ইউসুফ এবং বোন জামাই শফিকুল আলম। আব্দুর রব ১১ বছর যাবৎ কুয়েতে একটি মসজিদে ইমামতি করেন। তার স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতেই থাকেন। নিহত তিন জনের মধ্যে ইউসুফ এবং শফিকুল আলম দুই দিন আগে বেরাতে এসেছিলেন।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ