জনসংখ্যার তুলনায় পুলিশের সংখ্যা যথেষ্ট নয়: জাবেদ পাটোয়ারী

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ০৬:৪৩, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৭, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯

অনুষ্ঠান উদ্বোধনের সময় আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারীর সঙ্গে অন্যরাএকজন পুলিশ দিয়ে এক হাজার নাগরিকের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা কীভাবে সম্ভব—এমন প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ‘জনসংখ্যার অনুপাতে দেশে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা যথেষ্ট নয়। চট্টগ্রাম নগরীর জনসংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এই জনসংখ্যার বিপরীতে পুলিশ রয়েছে মাত্র ৭ হাজার। অর্থাৎ প্রতি এক হাজার মানুষের নিরাপত্তায় রয়েছে মাত্র একজন পুলিশ।’
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) বিকালে নগরীর দামপাড়াস্থ চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) লাইন্সে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। সিএমপির ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে পুলিশ মহাপরিদর্শক প্রধান অতিথি ছিলেন।
জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘আমরা যদি আশপাশের দেশগুলোর দিকে তাকায়। সেখানে দেখবেন, আড়াইশ’ জনের জন্য একজন পুলিশ; ৩০০ জনের জন্য একজন পুলিশ। ইউএন স্ট্যান্ডার্ড অনুয়াযী ৪০০ জন নাগরিকের বিপরীতে একজন পুলিশ থাকার কথা বলা হয়েছে। আমরা এখনও সেই মাইলফলক ছুঁতে পারিনি। এই মাইলফলক ছুঁতে আমাদের অনেক দূর যেতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘ আমাদের দেশে ৮০০ থেকে ৯০০ জনের বিপরীতে রয়েছে একজন পুলিশ। আমরা মনে করি, এটি কোনোভাবেই যথেষ্ট নয়। এ জন্য সব সময় আপনাদের (নাগরিক) কাছে ফিরে আসি। জনগণই আমাদের শক্তি, সে কারণে কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং নিয়ে আমরা আপনাদের কাছে হাজির হই।’
পুলিশ মহাপরিদর্শক বলেন, ‘আমরা যে টেকশই উন্নয়নের কথা বলি, এর জন্য টেকশই শান্তি প্রয়োজন। টেকশই নিরাপত্তা থাকলেই সেখানে টেকশই উন্নয়ন হবে। টেকশই নিরাপত্তা যাদের দেওয়ার দায়িত্ব, সেই পুলিশ বাহিনী দেশের সূচনালগ্ন থেকেই সাসটেইনেবল সিকিউরিটি দিয়ে আসছে।’
জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের পূর্বসূরিরা বাংলাদেশের অভ্যূদয়ের প্রাক্কালে ২৫ মার্চের কাল রাতে রাজারবাগে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল নিজেদের অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে। আমাদের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অতীত। ২০১৩, ১৪, ১৫ সালে আপনারা দেখেছেন অগ্নিসন্ত্রাস রুখে দিয়েছিল এই পুলিশ বুকের রক্ত ঢেলে দিয়ে। আমরা ১৭ জন সহকর্মীকে হারিয়েছিলাম। প্রায় এক হাজারের বেশি সহকর্মী পঙ্গু হয়ে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা হারিনি। এখন যুদ্ধ করছি মাদকের বিরুদ্ধে। আমাদের পাশে জনগণ যেভাবে দাঁড়াচ্ছেন, তাতে আমরা আশাবাদী দেশ সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ ছাড়া করবো ইনশাল্লাহ। আমরা সেই নিরাপদ ভবিষ্যতের প্রত্যাশা করি, যখন থাকবে না কোনও মাদক, দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ।’
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অংশ নেন জাতীয় সংসদের হুইপ শামসুল হক চৌধুরী, সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, ওয়াসিকা আয়শা খান, প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. অনুপম সেন, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হাসিনা মহিউদ্দিন, চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহাবুবুল আলম, সিএমপির সাবেক কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল, সাবেক কমিশনার ও অতিরিক্ত আইজিপি ইকবাল বাহার, চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খোন্দকার গোলাম ফারুক প্রমুখ।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিএমপি কমিশনার মাহবুবুর রহমান। পরে বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারী।

 

/আইএ/

লাইভ

টপ