সাত্তারের লাশ সামনে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা পাটকল শ্রমিকদের

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৫৭, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯




আব্দুস সাত্তারের জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক-কর্মচারীরা১১ দফা দাবি আদায়ে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে মৃত্যুবরণকারী প্লাটিনাম জুট মিল শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের (৫৫) জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় প্লাটিনাম জুট মিল গেটে বিআইডিসি সড়কে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার লাশ পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় নিয়ে যান স্বজন ও সহকর্মীরা। আব্দুস সাত্তারের ত্যাগকে শ্রদ্ধা জানিয়ে জানাজায় অংশ নেওয়া শ্রমিকরা ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

এরআগে, বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় অনশন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে শ্রমিক আব্দুস সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক তরিকুল ইসলাম, রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদর যুগ্ম আহবায়ক মুরাদ হােসেন, হুমায়ুন কাবির, সােহরাব হাসন, শ্রমিক নেতা কাওসার আলী মৃধা, খলিলুর রহমান, সেলিম আকন, সেলিম শিকদার, মনিরুল ইসলাম শিকদার, আবু হানিফ, শাহাজান সিরাজ, তরিকুল ইসলাম, মিজানুর রহমান ও মিন্টু মিয়া, স্টার জুট মিলের আবু হানিফ, তবিবর রহমান, আলমগীর হােসেন, সিরাজুল ইসলাম, লিয়াকত হােসেন, আব্দুল হামিদ, হারুন অর রশিদ আলাউদ্দিনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক প্রতিনিধিরা।

এদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণে শ্রমিক আব্দুস সাত্তারের মৃত্যু হয়েছে জানিয়ে তার পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। তিনি বলেন, মৃত শ্রমিকের পরিবারকে সব ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল ও খুলনা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনশনরত শ্রমিকদের চিকিৎসার জন্য মেডিক্যাল টিম গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

খুলনায় অনশন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন পাটকল শ্রমিকরা বৃহস্পতিবার রাতে খুলনার বিভাগীয় শ্রম অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় পাটকল শ্রমিকদের অনশন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ রাষ্ট্রয়ত্ত পাটকল করপোরেশনের শ্রমিকদের জন্য সরকার ঘোষিত জাতীয় মজুরি কমিশন ২০১৫ বাস্তবায়নে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় ১৫ ডিসেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আহ্বান করেছে। সভা থেকে শ্রমিকদের মজুরি কমিশন বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে মজুরি কমিশন বাস্তবায়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জাতীয় মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন করতে ১১০০ তিন কোটি টাকার প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট পাটকলগুলোর পণ্য বিক্রি করে এ অর্থ সংস্থান সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে গত সপ্তাহে একশ' কোটি টাকা দিয়ে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া চলমান ধর্মঘটের কারণে ছাঁটাই এবং বরখাস্ত শ্রমিকদের পুনর্বহাল করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী অনশন ও ধর্মঘটে থাকা শ্রমিকদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে কাজে ফেরার আহ্বান জানান।

তবে শ্রমিকরা কাজে ফিরে না গিয়ে শুক্রবারেও আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন। উত্তাপ আর তীব্র উত্তজনার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে শ্রমিকদের চতুর্থদিনের আমরণ অনশন কর্মসূচি। অনশনের কারণে অসুস্থ হয়ে অনেক শ্রমিক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। শ্রমিক নেতারা জানান, খুলনার বিভিন্ন পাটকলের অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ৪০ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্টার জুট মিল নন সিবিএ ভাইস প্রেসিডেন্ট বাচ্চু ব্যাপারী বলেন, আমাদের ২৬ জন সহকর্মী হাসপাতালে আছেন। আর প্যান্ডেলে শতাধিক শ্রমিক স্যালাইন নিয়ে আছেন।

খুলনায় অনশন কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন পাটকল শ্রমিকরা প্লাটিনাম জুট মিলের সাবেক সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, মিলের ৮০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়েছেন। এর মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট তরিকুল ইসলাম বলেন, আমরা না খেয়ে রাজপথে আন্দোলন করছি। আর প্রশাসন আমাদের নিয়ে তামাশা করছে। দাবি বাস্তবায়নে কোনও উদ্যোগই নিচ্ছে না।

রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদর যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, শীত এবং অনাহার থাকায় অসুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাড়ছে।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সােহরাব হােসেন জানান, তার মিলের ১৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ১৫ জনের স্যালাইন চলছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ নভেম্বর ১১ দফা দাবিতে ৬ দিনের কর্মসূচির ডাক দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। গত ২৫ নভেম্বর থেকে কর্মসূচি শুরু হয়। আর ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় আমরণ অনশন।

 

/টিটি/

লাইভ

টপ