মুন্সীগঞ্জে অজ্ঞাত রোগে একই পরিবারের দুজনের মৃত্যু

Send
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১:৪৫, জানুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১০, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

BT New Temp - nazrulমুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার যশলদিয়া গ্রামে অজ্ঞাত রোগে ১৮ ঘণ্টার ব্যবধানে একই পরিবারের দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আকস্মিকভাবে তারা মারা যাওয়ায় ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, বিষয়টি পর্যবেক্ষণে ডাক্তারদের একটি টিম নিহতদের বাড়িতে গেছে।

জানা গেছে, রবিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ওই গ্রামের মীর জুয়েলের স্ত্রী শামীমা বেগম (৩৪) এবং দিবাগত রাত ২টার দিকে তার ভাসুর মীর সোহেলের ছেলে আব্দুর রহমান (৩) মারা যায়।

মীর জুয়েলের চাচাতো ভাই মীর শিবলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে আকস্মিক জ্বরে আক্রান্ত হন ভাবি। ধীরে ধীরে তার শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। একই সঙ্গে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল লাল ছোপ দেখা দেয়। জ্বর আসার ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে তিনি মারা যান। পরে ভাতিজা আব্দুর রহমান আকস্মিক জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রবিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মারা গেছে। আব্দুর রহমান জ্বরে আক্রান্ত হলে মুহূর্তে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাল লাল ছোপচিহ্ন ফুটে ওঠে। ধীরে ধীরে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে মৃত্যুকোলে ঢলে পড়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক দেখিয়েছিলাম। কিন্তু, ঢাকায় নেওয়ার সুযোগ পাইনি। গতকাল (রবিবার) বিকালে ভাবিকে দাফন করি। আজ (সোমবার) দুপুরে দাফন করি ভাতিজাকে। তারা কোন রোগে মারা গেল বুঝতে পারছি না। আজ প্রশাসনের লোকজন ও ডাক্তাররা এসেছিলেন। কিন্তু, চিকিৎসকরা রোগ সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি।’

নিহতদের বাড়ি পরিদর্শন করা ডাক্তারদের টিমে ছিলেন ডা. মো. আতিক। তিনি বলেন, ‘নিহত দুইজনের কারও মরদেহ আমরা অবশ্য দেখতে পাইনি। তবে, স্বজনদের কাছ থেকে জানতে পারি স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে তারা প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ খেয়েছিল। তবে, কী রোগে তারা মারা গেছে এখনই বলা যাবে না। এ বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বলা যাবে।’

লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. কামরুল হাসান পাটোয়ারী জানান, শনিবার বিকালে জ্বর, পাতলা পায়খানা ও কাঁপুনি নিয়ে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নেন শামীমা। এরপর ডাক্তারের পরামর্শে ওষুধ সেবন করে। রাতে শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়তে শুরু করে। পরদিন সকালে মারা যান তিনি। এরপর শিশু আব্দুর রহমানও জ্বরে আক্তান্ত হলে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা নেয়। রাতে শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। একপর্যায়ে রাত ২টায় সেও মারা যায়।

/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ