১০ লাখ টাকা যৌতুক না দিলে পুড়িয়ে মারার হুমকি

Send
বরিশাল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৪৯, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩২, ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০

মালয়েশিয়া প্রবাসী কামরুল ইসলামবিয়ের সময় যৌতুক হিসেবে ছেলেপক্ষ আসবাবপত্র নিয়েছিল সাড়ে চার লাখ টাকার। বিয়ের দুই মাসের মাথায় মেয়ের বাবার কাছ থেকে আরও চার লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে মালয়েশিয়া গিয়েছিল ছেলে। সেখানে যুৎসই কাজ না পাওয়ায় ব্যবসা করার অজুহাতে মেয়ের বাবার কাছে আরও ১০ লাখ টাকা দাবি করে ছেলের পরিবার। সেই টাকা দিতে না পারায় মেয়েকে বেদম মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। দাবিকৃত ১০ লাখ টাকা না নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকলে পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মেয়ের বাবা কবির হোসেন সোমবার রাতে থানায় অভিযোগ দিলে বিয়েই অস্বীকার করে প্রবাসী কামরুল ইসলাম ও তার পরিবার।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা চন্দ্রদ্বীপ হাইকুল ও কলেজের এইচএসসি’র ছাত্রী গৃহবধূ মরিয়ম আক্তারের সঙ্গে ঘটেছে এ ঘটনা। মরিয়ম উপজেলার মাধবপাশা ইউনিয়নের পশ্চিম পাংশা গ্রামের গ্রাম পুলিশ কবির হোসেন হাওলাদারের মেয়ে। আর কামরুল একই এলাকার হারুন অর রশিদের ছেলে।

মেয়ের বাবা কবির বলেন, ‘প্রেমের সম্পর্কের পর উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০১৮ সালের ১৪ মে বরিশালে নোটারি পাবলিকের আদালতে এবং পরদিন ১৫ মে বরিশালের ৩০নং ওয়ার্ড কাজী অফিসে ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়। এরপর মরিয়মকে তুলে নেওয়ার সময় পাত্রপক্ষের চাহিদা মোতাবেক সেগুনসহ দামি কাঠের খাট, আলমারি, শোকেস, ডাইনিং টেবিল, ড্রেসিং টেবিল, আলনাসহ সাড়ে চার লাখ টাকা খরচ করে গৃহসজ্জার আসবাব বানিয়ে দেওয়া হয়।’

তিনি জানান, ‘কামরুলের মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য ভিসাসহ যাবতীয় খরচ আমার কাছে দাবি করে তার পরিবার। মেয়ের সুখের জন্য নিজের জমি বিক্রির চার লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করে ২০১৮ সালের ২২ জুলাই কামরুলকে মালয়েশিয়া পাঠাই। বিদেশে যাওয়ার পর থেকেই সেখানে ভালো কাজ না পাওয়ার অজুহাতে বিভিন্ন সময়ে টাকা নিতো কামরুলের পরিবার। বিদেশে বেকার জামাইয়ের থাকা-খাওয়ার খরচ, শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের খরচ ইত্যাদি বাহানায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অংকের টাকা আদায় করে কামরুলের বাবা হারুন অর রশিদ তালুকদার, মামা বশির হাওলাদার ও বড়ভাই মেহেদি হাসান।’

এই বাবা বলেন, ‘সর্বশেষ চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ায় ব্যবসা করার বাহানায় কামরুলের জন্য আরও নগদ ১০ লাখ টাকা চান তারা। ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তিন জন মিলে আমার মেয়ে মরিয়মকে মারপিট করে। একপর্যায়ে ওইদিনই বাড়ি থেকে বের করে দেয় তাকে। দাবিকৃত ওই টাকা না এনে বাড়িতে উঠলে তাকে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দেয় কামরুলের বাবা ও বড় ভাই।’

বিয়ের কাবিননামায় ছেলেপক্ষের উকিল সাক্ষী ছেলের চাচা ফিরোজ তালুকদার বলেন, ‘উভয় পরিবারের সম্মতিতে ২০১৮ সালের ১৫ মে বরিশালের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাজী অফিসে এই বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। সেখানে ছেলের মা-বাবা ও ভাইসহ আমাদের পরিবারের অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের পরে নবদম্পতি প্রায় দুই মাস ঘর-সংসারও করেছে। বিয়েতে ফার্নিচারসহ বিদেশ যাওয়ার টাকাও মেয়ের বাবা দিয়েছে। এরপরেও ছেলের পরিবার এখন কীভাবে বিয়েটাই অস্বীকার করে তা আমার বোধগম্য নয়।’

এ ব্যাপারে বরিশাল মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানার ওসি জাহিদ বিন আলম জানান, ‘ঘটনাটি পারিবারিক। প্রবাসী ছেলের পরিবারের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবির অভিযোগ আসায় বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য উভয়পক্ষের সম্মতিতে গত সোমবার সালিশের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে ছেলেপক্ষ সালিশে উপস্থিত হয়নি। রাতেই মেয়ের বাবা বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এখন বিধিমোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় মাধবপাশা ইউপি সদস্য ফকরুল ইসলাম রোকন খলিফা বলেন, ‘প্রবাসী কামরুলের পরিবার লোভী প্রকৃতির। মেয়ের বাবাকে সহজ-সরল পেয়ে এতদিন ইচ্ছামতো ভেঙেচুরে খেয়েছে। তাদের লোভ এতটাই বেড়ে গেছে যে এখন ১০ লাখ টাকা নগদ চাইছে। টাকা না নিয়ে বাড়িতে এলে মেয়েকে পুড়িয়ে মারবে বলে আমার সামনেই হুমকি দিয়েছে ছেলের বাবা। টাকা না দেওয়ায় এখন বিয়ে আর কাবিননামাও অস্বীকার করছে তারা।’

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইদ্রিস হোসেন বলেন, ‘কবির হোসেনের অভিযোগের ভিত্তিতে তার জামাতা কামরুলের বাড়িতে গেলে প্রথমে বিয়ের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে আসামি পক্ষ। পরে তাদের বাড়িতে যৌতুক নেওয়া নতুন ফার্নিচার দেখে জিজ্ঞেস করা হলে মালামাল নেওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিয়ের কাবিননামা এবং হলফনামার কথা অস্বীকার করে তারা।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে কামরুলের বাবা বিজিবি সদস্য হারুন অর রশিদকে ফোন করা হলে তিনি কর্মস্থলে আছেন এবং পুত্রবধূ মরিয়মকে চেনেন না বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। বিয়ের কাবিননামার সাক্ষী কামরুলের মা মেহেরুন্নেসা ডিনা পুত্রবধূর কাছে যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের কথা অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে বিয়ে এবং ফার্নিচার নেওয়াসহ ছেলের বিদেশ যাওয়ার সময় মেয়ের বাবার আর্থিক সহযোগিতার কথা স্বীকার করেন।

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ