বাস থেকে নামিয়ে বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, ভাইয়ের আঙুল বিচ্ছিন্ন

Send
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:০৭, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২১, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

বগুড়াবগুড়ায় দুর্বৃত্তরা প্রকাশ্যে বাস থেকে নামিয়ে আপেল মাহমুদ (৩৫) নামে এক বিএনপিকর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছে। এ সময় তার বড় ভাই বিএনপিকর্মী আল মামুনের (৩৮) দুই হাতের সব আঙুল বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে তারা। বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকালে বগুড়া সদরের মহাস্থানের কাছে চন্ডিহারা খোলাগাছির মোড়ের কাছে লিচু বাগানে এ ঘটনা ঘটে।

আহত মামুনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা জানান, দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক কোন্দলের জের ধরে ছাগল বিক্রির নামে দুই ভাইকে ডেকে এনে এ হামলা চালিয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, গোকুলে স্বেচ্ছাসেবক দল কর্মী সনি হত্যার জের ধরে এ প্রতিশোধ নেওয়া হয়।

পুলিশ ও এলাকাবাসীরা জানান, নিহত আপেল মাহমুদ ও আহত আল মামুন বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামের আবদুল মান্নান কসাইয়ের ছেলে। মামুন গোকুল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য, আর আপেল ওই ইউনিয়ন বিএনপির সক্রিয় কর্মী। দুই ভাই গরু-ছাগল কেনার জন্য বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে মহাস্থান হাটে যান। এ সময় দুর্বৃত্তরা ছাগল বিক্রির নামে তাদের ফোনে চন্ডিহারা খোলাগাছির মোড়ের কাছে আসতে বলে। সকাল ৯টার দিকে তাদের বহনকারী বাস সেখানে পৌঁছলে গোকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান মিজান ও তার সহযোগীরা দুই ভাই আপেল ও মামুনকে বাস থেকে নামিয়ে পাশেই একটি লিচু বাগানে নিয়ে যায়। তারা আপেলের বুকে ও পিঠে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনাস্থলেই আপেলের মৃত্যু হয়।মামুনের হাতে কোপ দিয়ে আঙুলগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় মামুনকে উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোকুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন আহমেদ বিপুল বলেন, ‘এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে গ্রুপিং চলে আসছে। ২০১৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি গোকুল এলাকায় মিজানের সহযোগী সনিকে হত্যা করা হয়। তখন মিজানও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। মামুন ওই হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। সনি হত্যার পর থেকে দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ তুঙ্গে উঠে। গত বছরে ২১ অক্টোবর মামুন আদালতে হাজিরা দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শহরের আটাপাড়ায় তার ওপর হামলার চেষ্টা করেছিল মিজান ও তার লোকজন।’

বগুড়ার ছিলিমপুর মেডিক্যাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই আবদুল আজিজ মন্ডল জানান, ‘ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আল মামুনের দুই হাতের আঙুলগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

সদর থানার ইন্সপেক্টর রেজাউল করিম রেজা জানান, ‘দুর্বৃত্তরা রাজনৈতিক ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে ছাগল বিক্রির নামে ডেকে এনে আপেলকে ছুরিকাঘাতে হত্যা ও তার ভাই মামুনের আঙুলগুলো প্রায় বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে। আপেলের লাশ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।’

মিজানুর রহমান মিজান ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে। 

 

/এফএস/

লাইভ

টপ