করোনা সন্দেহে চিকিৎসা না পাওয়া নওগাঁর যুবকের মৃত্যু হয়েছে মেনিনজাইটিসে

Send
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৭:৪০, মার্চ ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৭, মার্চ ২৯, ২০২০

নওগাঁনওগাঁর রাণীনগরের যুবক আল আমিনের (২২) মৃত্যু করোনাভাইরাসে নয়, মেনিনজাইটিসে হয়েছে বলে মৃত্যু সনদে চিকিৎসক উল্লেখ করেছেন। পরিবারের অভিযোগ, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক ইউপি মেম্বারসহ স্থানীয়রা তাকে এলাকায় ঢুকতে বাধা দেয়। পরে স্থানীয় তিনটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার কারণে মারা যান আল আমিন। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রবিবার সকালে নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।

আল আমিন রাণীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়নের অলঙ্কারদীঘি গ্রামের কৃষক মকলেসুর রহমানের ছেলে।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দারিদ্র্যের কারণে তিন-চার বছর আগে থেকে নারায়ণগঞ্জে একটি কাপড়ের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন আল আমিন । কয়েকদিন আগে থেকেই তিনি জ্বর ও কাশির কারণে অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার সকালে তিনি অসুস্থ অবস্থায় নারায়ণগঞ্জ থেকে রাণীনগরে আসেন। এ সময় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও কিছু লোক তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরে চিকিৎসার জন্য তাকে রাণীনগর, নওগাঁ সদর ও আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তিনটি হাসপাতাল থেকেই চিকিৎসকরা তাকে ফিরিয়ে দেন।

আল আমিনের বাবা মকলেসুর রহমান জানান, তার ছেলে আগে থেকেই এরকম রোগে ভুগছে। আল আমিন কাপড়ের দোকানে কাজ করে যে বেতন পেতেন তা দিয়ে চিকিৎসা করাতেন আর নিজে চলাতেন। বাড়িতে কোনও টাকা পয়সা দিতে পারতো না। খুব অসুস্থ অবস্থায় নওগাঁয় আসার পর শনিবার সকালে আল আমিনকে তিনটি হাসপাতালে নিয়ে গেলেও চিকিৎসা না পেয়ে নিয়ে যান রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কিছু ওষুধ আর ইনজেকশন লিখে দেন চিকিৎসকরা। সেগুলো দিয়েও তার ছেলের শরীরের জ্বর কোনোভাবেই কমছিল না। এরপর থেকে কোনও চিকিৎসক তার ছেলের আশপাশে আর আসেননি। সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে অতিরিক্ত জ্বরে আল আমিন শনিবার রাতে মারা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

কালিগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। চিকিৎসক তার মৃত্যুসনদে এটি নিশ্চিত করে দিয়েছেন। নিজ গ্রামে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে।’

অভিযুক্ত স্থানীয় মেম্বার মোফাজ্জল হোসেন বাচ্চু বলেন, ‘ছেলেটা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এমন খবর পাওয়ার পর তার পরিবারকে বলেছি মেডিক্যাল রিপোর্ট নিয়ে গ্রামে আসেন। যদি করোনাভাইরাস না থাকে তাহলে সমস্যা নেই। আর যদি ভাইরাস থাকে তাহলে চিকিৎসা করান, গ্রামে আসা যাবে না। গ্রামের সবার নিরাপত্তার কথা ভেবে বাধা দেওয়া হয়েছিল।’

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, ‘ওই যুবক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। তিনি মেনিনজাইটিস রোগে মারা গেছেন। তার মৃত্যু সনদে চিকিৎসক তা নিশ্চিত করে দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে ছেলেটাকে গ্রামে উঠতে না দিয়ে অমানবিক কাজ করেছে তারা।’

আরও পড়ুন: 

করোনা সন্দেহে যুবককে বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি গ্রামবাসী, চিকিৎসার অভাবে মৃত্যু 

করোনা সন্দেহে যুবককে বাড়িতে উঠতে দিলো না গ্রামবাসী

 

 

/এমএএ/এমওএফ/

লাইভ

টপ