সাভার-আশুলিয়ার অনেক গার্মেন্টস রবিবার চালু ছিল

Send
সাভার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:১৫, এপ্রিল ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২১, এপ্রিল ০৫, ২০২০

গার্মেন্টস কারখানাকরোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় সারাদেশের মতো সাভার ও আশুলিয়ায় প্রায় সব গার্মেন্টস কারখানা শনিবার (৪ এপ্রিল) পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছিল। এরপর সরকার ১১ এপ্রিল পর্যন্ত নতুন করে ছুটি বাড়ানোর পর বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে কারখানা বন্ধ রাখার অনুরোধ করা হলেও সাড়া দেননি অনেক মালিক। রবিবার সকাল থেকে সাভার ও আশুলিয়ায় করোনার ঝুঁকি নিয়ে কাজে যোগ দিয়েছেন অনেক কারখানার শ্রমিক। তবে কোনও কোনও কারখানা সকালে নির্ধারিত সময়ে চালুর পর দুপুরের দিকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রবিবার সকাল থেকে সাভারের উলাইল এলাকা, আশুলিয়া, জামগড়া, জিরাবো ও কাঠগড়া এলাকায় অনেক গার্মেন্টস কারখানা চালু রেখে উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

কাজে যোগ দেওয়া পোশাকশ্রমিক আছমা, সুলতানা ও রফিকসহ অনেকে বলেন, ‘করোনা আতঙ্কে পরিবহন বন্ধ রয়েছে। কারখানা চালু থাকার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে রিকশা, ভ্যানে, পায়ে হেঁটে সবাই কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে। করোনা ঝুঁকি মাথায় নিয়েই চাকরি বাঁচানোর জন্য কারখানায় যেতে হচ্ছে।’

আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার গ্লোবাল সোয়েটার লিমিটেডের পরিচালক রেজাউল কবির রাসেল জানান, কারখানা বন্ধের জন্য কলকারখানা অধিদফতর বা সরকারিভাবে তাদের কোনও নিদের্শনা দেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা কারখানা চালু রেখেছেন। তিনি দাবি করেন, শ্রমিকদের সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিয়েই তারা কারখানা খোলা রেখেছেন। প্রতিদিন কারখানায় প্রবেশের সময় শ্রমিকদের হাত ধোয়া ও মাস্কসহ প্রতিনিয়ত জীবাণুনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এছাড়াও তাদের কারখানা চালু থাকার কারণে এসব শ্রমিকরা অন্য কোথাও যেতে পারেনি। তাই করোনা বিস্তার রোধ হচ্ছে।

ধামরাইয়ের স্নুটেক্স কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক ও পাবলিক রিলেশন অফিসার রাহাত জানান, বিজিএমএইএ’র নির্দেশনা অনুযায়ী রবিবার কারখানা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার রাতে হঠাৎ করেই বিজিএমইএ থেকে ১১ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা জানানোর পর তারা আবারও বন্ধ ঘোষণা করেছেন।

বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সরোয়ার হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সময়ে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সরকারও সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এমনকি পোশাক কারখানার জন্য প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছে। এরপর শ্রমিকদের অনেক মালিক বলে দিয়েছেন কারখানায় না আসলে চাকরি থাকবে না। শুধু অবহেলার জন্য রানা প্লাজা ও তাজরীনে বড়ো দুর্ঘটনা ঘটেছে। আবারও কারখানায় করোনা ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকরা কাজ করার কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। এতে হুমকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে পুরো বাংলাদেশ। মালিকরা কখনোই শ্রমিকদের কথা ভাবেন না। তারা নিজেরা ঘরে বসে থেকে শ্রমিকদের রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছেন স্বার্থের জন্য। শ্রমিকরাও যে মানুষ তারা সেটি কখনও চিন্তা করেন না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজিএমইএ’র সমন্বয়হীনতার কারণে আজ এই অবস্থা। এছাড়াও করোনা শুরু পর থেকেই অনেক ছোট কারখানা অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে দিয়েছে। ওইসব কারখানার শ্রমিকরা বেতন পাননি। তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।’ তিনি সরকারিভাবে কারখানা বন্ধের নির্দেশ দেওয়ার অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড শিল্প শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি রফিকুল ইসলাম সুজন জানান, বাংলাদেশে করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই তারা সব কারখানা বন্ধ রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত বিজিএমইএ’র সংবাদ সম্মেলন ছাড়া এ বিষয়ে সরকারের কোনও ভূমিকা দেখতে পাননি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কারখানায় দু-একদিন অনুপস্থিত থাকলেই মালিকপক্ষ শ্রমিকদের ছাঁটাই করে দেয়। এর ফলে অনেক শ্রমিক জ্বর, ঠান্ডায় আক্রান্ত হওয়ার পরও চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য কারখানায় যাবেন। এছাড়াও একটি কারখানায় হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এতে একসঙ্গে ব্যাপক আকারে ওই কারখানায় করোনা ছড়িয়ে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, ‘মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জীবনের কথা চিন্তা করলে সারাদেশ লক ডাউনের পরও কারখানা চালু রাখতে পারতেন না।’

অন্যদিকে আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পরিদর্শক মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘কারখানা বন্ধ বা চালু রাখার বিষয়ে তাদের কোনও নির্দেশনা নেই। তবে যেকোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।’

/এমএএ/

লাইভ

টপ