বিতরণের জন্য পর্যাপ্ত ত্রাণ না পেয়ে ১৪ কাউন্সিলের বিবৃতি

Send
দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৩০, এপ্রিল ০৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩১, এপ্রিল ০৮, ২০২০

দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলররা করোনা সংকটে ত্রাণ বিতরণ নিয়ে জটিলতায় পড়ায় বিবৃতি দিয়েছেন। ত্রাণ বিতরণ করতে না পারায় জনগনের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ানোর অবস্থা হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন পৌরসভার ১৪ কাউন্সিল

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নেই। এছাড়া প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় সঠিক তালিকা তৈরি করে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ত্রাণ বিতরণের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে  উল্লেখ করা হয়,  এই ১৪ কাউন্সিলর তিন মাসের সম্মানির টাকা ও তিন মাসের অনুদানের টাকায় পৌরসভার মাধ্যমে চাল ক্রয় করে অসহায়, গরীব ও কর্মহীন হয়ে পড়া পৌরবাসীর মাঝে বিতরণ করবেন।

গত ৭ এপ্রিল রাতে দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলরবৃন্দের সিল  ও স্বাক্ষরযুক্ত এই বিবৃতিটি স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমের  প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়া হয়। বিবৃতিটিতে স্বাক্ষর করেছেন দিনাজপুর পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলাসহ ১৪ জন কাউন্সিলর।

লিখিত বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সবাই আজ এক কঠিন সময় পার করছি। করোনা (কোভিক-১৯) নামক ভাইরাসের আক্রমণের ভয়ে সবাই গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছি। হাজারও মানুষ কাজে যেতে পারছেনা। মানুষের ঘরে খাবার নেই। মানুষ চেয়ে আছে সরকার, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তবানদের দিকে একটু ত্রাণের আশায়।

কিন্তু আমরা দিনাজপুর পৌরসভার জনপ্রতিনিধিরা মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরন করতে পারছিনা বললেই চলে। আমাদের সামর্থ্য অনুয়ায়ী যতটুক পারছি ততটুক জনগণকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছি। যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

দিনাজপুর পৌরসভা জেলা প্রশাসন থেকে যে ১২ টন চাল ও ৩০ হাজার টাকা পেয়েছিল, সেখান থেকে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র প্রত্যেক কাউন্সিলরকে ৫০ টি করে কার্ড ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দিয়েছিলেন ২০টি করে কার্ড । আমরা সেই ৭০ টি কার্ড ইতিমধ্যে বিলি করে দিয়েছি।  অথচ ১২ টি ওয়ার্ডে শুধু মাত্র ভোটার সংখ্যা ১ লক্ষ ২৫ হাজার, আর জন সংখ্যা ৪ লাখ। একজন কাউন্সিলর ৭০টি কার্ড কাকে দেবে, কাকে দেবেনা অবস্থায় পড়েছি।

আমরা কাউন্সিলররা লক্ষ্য করছি, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে। সেই ত্রাণ কাছে জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ নেই। এতে করে একই ব্যক্তি একাধিকবার ত্রাণ পাচ্ছেন আমরা লক্ষ্য করছি। এ অবস্থায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমাদের ৩ মাসের সম্মানির টাকা ও ৩ মাসের অনুদানের টাকায় পৌরসভার মাধ্যমে চাল ক্রয় করে অসহায়, গরীব, দুস্থ ও কর্মহীন হয়ে পড়া পৌরবাসীর মাঝে বিতরণ করব। আমাদের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস বর্তমান অস্থার কাছে কিছুই না।

কারণ যে পরিমাণ লোকজন আমাদের বাড়িতে এসে বা রাস্তাঘাটে দেখতে পেয়ে ছুটে আসছে তাতে করে আমরা  জনপ্রতিনিধিরা পালিয়ে বাঁচি অবস্থা। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে ত্রাণ কার্যক্রম সঠিক ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুয়ায়ী জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা নিশ্চিত হলেই এই অবস্থা থাকবেনা বলে আমাদের বিশ্বাস।’

তাই প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও ত্রাণ বরাদ্দ দিয়ে ত্রাণ বিতরণে সুযোগ করে দেয়ার দাবি জানান তারা। ১৪ কাউন্সিলরের স্বাক্ষরযুক্ত সংবাদপত্রে বিবৃতি দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন দিনাজপুর পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেহাতুল ইসলাম খোকা।

/এফএএন/

লাইভ

টপ