বনবিভাগের ট্রলারেই সুন্দরবনের গাছ কেটে পাচার! (ভিডিও)

আবুল হাসান, মোংলা
০৭ মে ২০২০, ০৯:৫৮আপডেট : ০৭ মে ২০২০, ১১:৪৭

বনবিভাগের ট্রলারে করে গাছ পাচার করোনা পরিস্থিতিতে সুন্দরবনে লকডাউনের মধ্যেই দিনেদুপুরে গাছ কেটে পাচারের অভিযোগ উঠেছে। আর এই অভিযোগ উঠেছে খোদ বনকর্মকর্তার বিরুদ্ধেই। পূর্ব সুন্দরবনের ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তা (এসও) মো. আনোয়ার হোসেন খান ঘাগরামারী এলাকা থেকে সুন্দরী ও কাকড়া গাছ ট্রলারে পাচার করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৬ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পাচার কাজে ব্যবহৃত হয় বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলার। তবে জানতে চাইলে ট্রলারের লোকজন বলেন, ‘এ গাছ আমাদের স্টেশন অফিসার (এসও) আনোয়ার সাহেব ঘাগরামারী থেকে কেটে আনার অনুমতি দিয়েছেন।’ বনবিভাগের ট্রলারে করে গাছ পাচার

তবে ঢাংমারী স্টেশনের এসও মো. আনোয়ার হোসেন খান দাবি করে বলেন, ‘ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ি থেকে এ গাছ আমাদের স্টেশনের (ঢাংমারী) স্থাপনা তৈরির কাজে আনা হচ্ছিল। এ ব্যাপারে আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশনা রয়েছে।’ তবে বনবিভাগের পতাকাবাহী ট্রলারে গাছ নিয়ে আনার সময় তিন ‘পাচারকারী’ ছাড়া কোনও বনরক্ষী বা কর্মকর্তা ছিলেন না।

এদিকে বনবিভাগের স্থাপনা তৈরির কাজে কোনও গাছ ব্যবহার করতে হলে তাদের জব্দকৃত গাছ ছাড়া ব্যবহার করতে পারবেন না বলে জানান পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. এনামুল হক। ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খানের সুন্দরবনের সদ্য গাছ কাটার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনি (এসও আনোয়ার) বলেছেন তাদের স্টেশনের জেটি নির্মাণের জন্য নেওয়া হচ্ছিল। তবে সেটি সদ্য কাটা কিনা আমি বলতে পারবো না।’ স্টেশন অফিসার মো. আনোয়ার হোসেন খান

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খান ও ঢাংমারী স্টেশনের আওতায় ঘাগরামারী টহল ফাঁড়ির ওসি আব্দুর রউফের বিরুদ্ধে গাছ পাচারসহ নানা রকম অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। ঢাংমারী স্টেশনের পাশের গ্রাম ভোজনখালীর বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মুজিবর রহমান মিস্ত্রি, সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. আফসার আলী ও সঞ্জয় কুমার বর্মণ অভিযোগ করে বলেন, এসও আনোয়ার এবং ওসি আব্দুর রউফ তাদের লোক দিয়ে সুন্দরবন থেকে প্রতিনিয়ত সুন্দরী, কাকড়া ও বাইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান গাছ পাচার করে। যারা এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করে তাদের বিরুদ্ধে হরিণ পাচারের মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেন বলেও জানান তারা। এসব কাজে ভোজনখালীর বাসিন্দা বাদল ও ট্রলার মাঝি রহিম নামে দুই ব্যক্তি বনকর্তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।  চাঁদপাই রেঞ্জ, সুন্দরবন

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বনকর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেনের কাছে ঢাংমারী স্টেশনের এসও আনোয়ার হোসেন খানের গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে ‘বিষয়টি আমি দেখছি’ বলেই ফোন কেটে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ প্রসঙ্গে বন সংরক্ষক খুলনাঞ্চল (সি এফ) মো. মঈন খান বলেন, ‘সুন্দরবন থেকে সদ্য গাছ কেটে স্টেশনের কোনও স্থাপনা তৈরি করার কোনও সুযোগ নাই। দীর্ঘদিনের জব্দকৃত গাছ দিয়ে এসব স্থাপনা করতে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে। কোনও কর্মকর্তা বনের গাছ কেটে থাকলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এফএস/এমএমজে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
মধ্যপ্রাচ্যের তিন যুদ্ধবিরতিকেই কেন যুদ্ধ মনে হচ্ছে
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি