শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইনে ক্লাস, সংশয়ে অভিভাবকরা

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৩৮, মে ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৪৪, মে ১৪, ২০২০

খুলনা

করোনা পরিস্থিতির কারণে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিন্তু সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি খুলনার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব মাধ্যমেও ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। মহানগরীর শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মধ্যে অনলাইনে ক্লাসের বিষয়ে কিছুটা আগ্রহ রয়েছে। তবে প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই বিষয়ে কেউ তেমন একটা জানেন না। অনেক শিক্ষার্থী অনলাইন সুবিধার বাইরে থাকায় তাই ডিজিটাল শিক্ষার ব্যাপারে সংশয়ে রয়েছেন অভিভাবকরা।

এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক শেখ হারুনর রশীদ বলেন, 'উদ্যোগটি প্রশংনীয়। কিন্তু যেখানে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেখানে এই পদ্ধতি বাস্তবায়ন ও প্রয়োগ নিয়ে সংশয় রয়েছে।'

জানা যায়, ক্রমবর্ধমান সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলে স্মার্টফোন বহন করতে পারবে না বলে খুলনা জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের সভায় সিদ্ধান্ত দিয়েছে। খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ওই সভায় তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইকবাল হোসেন সভাপতিত্ব করেন। এরআগে গত বছরের আগস্ট মাসে খুলনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল ফোন ব্যবহারের বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি)।

ডিজিটাল মাধ্যমে শিক্ষার বিষয়ে অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, 'বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন নেই, কিছু শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন থাকলেও অর্থাভাবে ইন্টারনেট সেবা নেই এবং স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট সেবা থাকা সামান্য কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে এই অনলাইন শিক্ষা আগ্রহ সৃষ্টি করতে পারছে না। ক্লাসে আই-কন্ট্রাক্টে শিক্ষার্থীকে আগ্রহী করা হয়। কিন্তু অনলাইন শিক্ষায় সেই আগ্রহ তৈরি হচ্ছে না। এর ফলে অনলাইন শিক্ষার সুফল পাওয়া নিয়ে সংশয় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোই অনলাইন ক্লাসে সাফল্য পাচ্ছে না। সেখানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে সফল হওয়া কঠিন।'

মহানগরীর রায়পাড়া এলাকার শিক্ষার্থী তানিয়া খাতুন জানান, অনলাইনে ক্লাস করার মতো কোনও সুবিধা তার পরিবারে নেই। বিদ্যালয় বন্ধের পর থেকে পড়ায় তেমন মনোযোগও নেই তাই।

দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামের শিক্ষার্থী রাইসুল ইসলাম জানান, তার পরিবারে কথা বলার মতো একটি মোবাইল ফোন রয়েছে। কিন্তু তাতে অনলাইনে ক্লাস করার মতো সুবিধা নেই।

খুলনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম সিরাজুদ্দোহা বলেন, 'সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি এটা শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ। সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা পাবে না।'

খুলনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খোন্দকার রুহুল আমিন বলেন, 'যে সব শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন এবং যাদের স্মার্টফোন থাকবে, তারা এই ক্লাসের সুবিধা পাবে, অন্যরা পাবে না।'

খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন বলেন, 'করোনা পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখতে শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শিক্ষা চালু করা হয়েছে। সবার কাছে মোবাইল ও ইন্টারনেট সেবা নেই, এটা ঠিক; কিন্তু সংসদ টিভি যত লোক দেখেন, তার চেয়ে বেশি লোকের হাতে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা আছে।' তাই সংসদ টিভির চেয়ে ফেসবুক ও ইউটিউবে অনলাইন শিক্ষা বেশি সফল হবে বলে তিনি আশা করেন।

উল্লেখ্য, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) এর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষক-শিক্ষিকাকেও সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত সব ক্লাস দেখার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অধিদফতরের আওতাধীন সব আঞ্চলিক কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধকালীন ষষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির পাঠদানের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য 'সংসদে বাংলাদেশ টেলিভিশন'-এ নির্দিষ্ট অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বিষয়ভিত্তিক পাঠদান কর্মসূচি চলমান। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শ্রেণি কার্যক্রমও চলছে সংসদ টেলিভিশনে।

শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সংসদ টেলিভিশনের পাশাপাশি খুলনায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাসের জন্য ফেসবুক ও ইউটিউবেও নেওয়া হচ্ছে ক্লাস। জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল প্রাইমারি এডুকেশন খুলনা ও ডিজিটাল সেকেন্ডারি এডুকেশন খুলনা নামে ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল এর কার্যক্রম ১১ মে উদ্বোধন করা হয়।


 

/এএইচ/

লাইভ

টপ