হিলিতে আড়তে ধান কেনা বন্ধ, বিপাকে কৃষক

Send
হিলি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৩৬, মে ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৬, মে ২৬, ২০২০

ক’দিন ধরে ধান বিক্রির এমন সুযোগ পাচ্ছেন না হিলির কৃষকরা (ছবি: ইন্টারনেট থেকে নেওয়া)

দিনাজপুরের হিলিতে করোনাভাইরাসের কারণে পরিবহন ও ব্যাংক বন্ধ থাকায় আড়তদাররা ধান কেনা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে করে ধান বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। কোনও কোনও আড়তদার ধান কিনলেও আগের তুলনায় খানিকটা কম দামে ধান কিনছেন।  এতে মণপ্রতি ১শ টাকা কম দাম পাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। এছাড়াও সরকারিভাবে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় সরকারি গুদামেও ধান বিক্রি করতে পারছেন না তারা।

সরেজমিন হিলি বাজার, ছাতনি, হরিহরপুর, সাতকুড়ি বাজারসহ বিভিন্ন ধানের আড়তদারদের দোকানর ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশ আড়তদার ঈদের কারণে ধান কেনা বন্ধ রেখেছেন। দু’একজন ধান কিনলেও দাম কম দিচ্ছেন। বর্তমানে প্রতিমণ ধান ৮শ টাকা দরে কিনছেন তারা। কদিন আগেও এই ধান ৯শ’ থেকে ৯শ’১০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল।

হিলির দক্ষিণ বাসুদেবপুরের কৃষক জাহাঙ্গীর হোসেন ও ছাতনী গ্রামের কৃষক জহুরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় একটু দেরিতে আমাদের এই অঞ্চলের ধান পাকে। যার কারণে ধানকাটা ও মাড়াই একটু পরে হয়। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্পানের কারণে অনেক জমির ধান মাটিতে হেলে পড়েছে ও অনেক জমিতে পানি জমায় ধানগুলো পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। শুষ্ক অবস্থায় একবিঘা জমির ধান কাটতে শ্রমিকদের মজুরি দিতে হতো দু থেকে আড়াই হাজার টাকা, বর্তমানে দিতে হচ্ছে বিঘা প্রতি ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা বেশি।

তারা বলেন, আমন ধান কাটা ও মাড়াই শেষে কিছুদিন রাখা যায়। কিন্তু বোরো ধান কাটা ও মাড়াই শেষেই বিক্রি করতে হয়। এই ধান তেমনভাবে রাখা যায় না। আড়তদাররা ধান কেনা বন্ধ করায় ধান নিয়ে বিপাকের মধ্যে পড়েছি। দুএকজন আড়তদার ধান নিতে চাইলেও দাম কম বলছে আবার কেউবা আবার বাকিতে ধান নিতে চাইছেন।

তারা বলেন, সরকার ২৬ টাকা কেজি দরে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করবে ঘোষণা দিলেও আমরা ধান নিয়ে গুদাম থেকে ঘুরে আসছি এখনও সেখানে ধান ক্রয় শুরু করা হয়নি। কিছুদিন আগে যে ধান ৯শ’ টাকা মণ বিক্রি করেছি এখন সেই ধান ৮শ’ টাকা বলছে। এতে করে আমরা কৃষকরা ধান নিয়ে বিপাকের মধ্যে পড়েছি।

হিলির ছাতনি চারমাথা মোড়ের ধানের আড়তদার তোফাজ্জল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ঈদুল ফিতরের আগে ও পরের সাতদিন সময় পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই সঙ্গে ব্যাংকগুলো বন্ধ রয়েছে। এতে করে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানের যেসব মোকামে ধান ক্রয় করে পাঠাতাম সেগুলোতেই ধান ক্রয় বন্ধ করে দিয়েছে। যার কারনে আমরাও ধান ক্রয় বন্ধ রেখেছি। আর কৃষকের কাছ থেকে ধান নেওয়া মাত্র তারা টাকার জন্য আমাদের কাছে চলে আসছে। ব্যাংক তো বন্ধ, টাকা আমরা দেবো কিভাবে? তাই ধান ক্রয় বন্ধ রেখেছি। বাজারে ধানের চাহিদা কমার কারণে ধানের দামও কমেছে। বর্তমানে প্রতিমণ ধান ৮শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ৯শ’ ১০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তবে পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে ও ব্যাংক চালু হলে আবারও ধান ক্রয় করা হবে।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয়ের লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই উপজেলার ১০ হাজার ৭১০জন কৃষকের মধ্যে উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে ১ হাজার ৩৭৩জন কৃষককে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিত কৃষকরা ২৬ টাকা কেজি দরে প্রত্যেকে এক টন করে ধান গুদামে সরবরাহ করতে পারবেন। অচিরেই তাদের কাছ থেকে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।

 

 

/টিএন/

লাইভ

টপ