করোনা নিয়েই একজন চট্টগ্রামের পথে, অন্যজন ঘরের বাইরে!

Send
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:৩৯, মে ৩১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪১, মে ৩১, ২০২০




কুড়িগ্রামকুড়িগ্রামে শনিবার (৩০ মে) নতুন করে আরও দুই জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। তবে এদের মধ্যে একজন কুড়িগ্রাম থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হওয়ার পর নিজের করোনা শনাক্তের খবর পান। অপরজন জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার নিজ বাড়ি থেকে কুড়িগ্রাম শহরে আসার পর খবর করোনা পজিটিভের তথ্য পান।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, শনিবার (৩০ মে) পাওয়া প্রতিবেদনে জেলার উলিপুর উপজেলার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের ফকির মোহাম্মদ গ্রামে চট্টগ্রাম ফেরত এক গার্মেন্টকর্মীর করোনা পজিটিভ তথ্য পাওয়া যায়। গত ১২ মে চট্টগ্রাম থেকে কুড়িগ্রামে এসে অসুস্থ বোধ করলে, ২৭ মে ওই নারীর নমুনা নেওয়া হয়। প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই তিনি শনিবার চট্টগ্রামের উদ্দেশে কুড়িগ্রাম ত্যাগ করেন। তবে রংপুর পৌঁছার পর সন্ধ্যায় তাকে ফোন করা হলে তিনি আবারও কুড়িগ্রামে ফেরত আসেন।

সূত্র আরও জানায়, জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় চন্দ্রখানা গ্রামের বাসিন্দা ঢাকায় কাস্টমস বিভাগে কর্মরত। তিনি গত ২০ মে বাড়ি ফেরার পর ২১ মে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শনিবার পাওয়া প্রতিবেদনে তারও করোনা আক্রান্তের ফল আসে। কিন্তু সন্ধ্যায় তাকে ফোন দিলে জানা যায় তিনি ব্যক্তিগত কাজে ফুলবাড়ী থেকে জেলা শহরে এসেছেন। পরে তিনি নিজ বাড়িতে ফেরত যান।

জানতে চাইলে উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, ‘আমরা প্রতিবেদন পাওয়ার পর খোঁজ নিয়ে জানতে পারি আক্রান্ত নারী চট্টগ্রামে কর্মস্থলের পথে রওনা দিয়েছেন। পরে রাত ৮টার দিকে আমরা তাকে বাসায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করি। তার বাড়ি লকডাউন করা হয়।’

করোনা নিয়ে বাড়ির বাইরে যাওয়ার প্রশ্নে করোনা পজিটিভ হওয়া ফুলবাড়ীর বাসিন্দা ও কাস্টমস সদস্য বলেন, ‘আমি গত ১০ দিন যাবত স্বাস্থ্যবিধি মেনে কোয়ারেন্টিনে আছি। আমি মোটামুটি সুস্থ। এই মুহূর্তে আমার কোনও উপসর্গ না থাকায় ব্যক্তিগত কাজে কুড়িগ্রাম সদরের শাপলা চত্ত্বরে গিয়েছিলাম। তবে সন্ধ্যার পর আমি মোবাইলে করোনা পজিটিভ হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত বাড়ি চলে আসি।’

নমুনা সংগ্রহ করার পরে প্রতিবেদন পাওয়ার আগেই স্বাস্থ্যবিধির নির্দেশনা লঙ্ঘন করে সন্দেভাজন আক্রান্তদের বাইরে বের হওয়ার বিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘করোনা শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কারও বাড়ি লকডাউন করতে পারি না। তবে আমরা তাদের নির্দেশনা প্রদান করে থাকি। এর অংশ হিসেবে ফুলবাড়ী উপজেলার আক্রান্ত ওই ব্যক্তির বাড়িতে আমরা নমুনা সংগ্রহের পর লাল পতাকা টাঙিয়ে দিয়েছি। এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

উল্লেখ্য, শনিবার পাওয়া প্রতিবেদনে করোনা পজিটিভ দুই জনসহ জেলায় মোট ৬৯ জনের করোনা শনাক্ত হলো। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ২৯ জন।

/টিটি/

লাইভ

টপ