বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বদলে ব্লিচিংয়ের পানি!

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:১৫, জুন ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫৩, জুন ০৫, ২০২০

করোনা পরিস্থিতিতে খুলনার সড়ক ও মহাসড়কে অধিকাংশ পরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। বাস টার্মিনালে বেড়েছে জনসমাগম। শারীরিক দূরত্ব থাকছে না। চালক ও হেলপাররা ব্যবহার করছেন না মাস্ক। নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজারও। হাত ধোয়ার জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে অতিমাত্রায় ব্লিচিং মিশ্রিত পানি, যা ত্বকের জন্য ক্ষতিকারক।

শুক্রবার (৫ জুন) খুলনা শহরের গণপরিবহনে এই চিত্র দেখা গেছে। সরেজমিন দেখা যায়, বাসে ওঠার সময় যাত্রীরা গাঘেঁষে উঠছেন। হেলপারও দরজায়ই দাঁড়িয়ে থাকছেন। বাসের সিট জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে না। আগের মতোই টেনেহিঁচড়ে তোলা হচ্ছে যাত্রী।

সোনাডাঙ্গা থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি বাসের হেলপার কালু শেখ জানান, বাসে জীবাণুনাশক ওষুধ স্প্রে করা হয়েছে। কিন্তু আজই লিকুইড শেষ হওয়ায় স্প্রে করতে পারছেন না। তবে যাত্রীদের ধীরে ধীরে বাসে ওঠানো ও নামানো হচ্ছে।

বাসযাত্রী মো. আকরাম আলী জানান, প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে বাসে চড়ার আগ্রহ একদমই নেই। কিন্তু জরুরি প্রয়োজনে বাধ্য হয়েই বাসে উঠেছি। বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মানা হচ্ছে না। যেটুকু হচ্ছে, লোক দেখানো। সচেতন থাকলেও মানুষ এখানে অসহায়, কিছুই করার নেই।

আরেক যাত্রী লায়লা আক্তার বলেন, ‘বাগেরহাট রুটের বাসগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে যাত্রী বসার নিয়মটিই মানা হচ্ছে। তবে, যাত্রী তোলার ক্ষেত্রে দূরত্ব থাকছে না। আর হাত ধোয়ার জন্য ব্লিচিং মিশ্রিত পানি ব্যবহার করা হচ্ছে। যা দেওয়ার পর হাত জ্বলছে এবং চুলকাচ্ছে।’

খুলনা জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার হোসেন সোনা বলেন, ‘আগে দিনে ৫০ থেকে ৬০টি বাস লাইনে থাকতো। এখন ১০ থেকে ১৫টি বাস চলাচল করছে। কিন্তু যাত্রী নেই। ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিন্তু যাত্রী না হলে ভাড়া আসবে কী করে। একটি ট্রিপে ২০ জন যাত্রী থাকার কথা। কিন্তু ৫ থেকে ১০ জন যাত্রী পাওয়া যায়। এতে তেল খরচ তো কমবে না। তাই তেল খরচ বাদ দিয়ে তেমন কিছু থাকে না। তারপরও স্বাস্থ্যবিধি মেনেই পরিবহন চালু রাখা হচ্ছে। বাসে স্প্রে করা হচ্ছে। যাত্রীদের হাতেও স্প্রে দেওয়া হচ্ছে। দুই চামচ ব্লিসিং পাউডার ১৫ লিটার পানিতে মিশিয়ে তা ছোট ছোট বোতলে নিয়ে স্প্রে করা হচ্ছে।’

খুলনার সিভিল সার্জন ডা. সুজাত আহমেদ বলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা। কিন্তু ব্লিচিং পাউডারের পানি হাতে ব্যবহার করা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর। এটা ত্বকের জন্য ঝুঁকি বাড়ায়।’

খুলনা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, ‘সার্বিক করোনা পরিস্থিতি মনিটরিং করাসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সার্বক্ষণিক মাঠে সক্রিয় আছে। নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করার কারণে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে জরিমানা করা হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা মনিটরিং করা হচ্ছে।’

/এনএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ