রেড জোন কক্সবাজার: কঠোর লকডাউনের শুরুতেই শহর ফাঁকা

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬:৪৭, জুন ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫০, জুন ০৬, ২০২০

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরকে রেড জোনভুক্ত করেছে প্রশাসন। ১৪ দিনের কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন ছিল শনিবার (৬ জুন)। লকডাউনের প্রথম দিনেই কার্যত শহর ফাঁকা হয়ে গেছে। শনিবার থেকে চলা এই লকডাউন শেষ হবে ২০ জুন। প্রাথমিকভাবে পৌরসভার ১২টি প্রশাসনিক ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে শুক্রবার জরুরি নির্দেশনা জারি করেন জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।
শনিবার সকাল থেকে দেখা গেছে, জনসাধারণ এবং যানবাহন চলাচলের ওপর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণকে বাসার বাইরে না আসতে অনুরোধ করা হচ্ছে। মাঠে রয়েছে প্রশাসনের শক্তিশালী টিম।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুরে বিমানবন্দর সড়কের প্রবেশমুখে নিজের টিমসহ দায়িত্ব পালন করছেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার। এ সময় কথা হলে তিনি জানান, নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে সুরক্ষিত রাখতে এটিই সুযোগ। অজুহাত দেখানো মানে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া।
রেড জোন এলাকার জন্য জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা হলো:
ক. সকল প্রকার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ। সব জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আবাসস্থলে অবস্থান করবে।
খ. সকল ব্যক্তিগত ও গণপরিবহন বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকারী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। কোভিড ১৯ মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি গাড়ি চলাচলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি গ্রহণ করবে। অ্যাম্বুলেন্স, রোগী পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যক্তিবর্গের (অনডিউটি) পরিবহন, কোভিড ১৯ মোকাবিলা ও জরুরি সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের গাড়ি এর আওতার বাইরে থাকবে।
গ. সকল প্রকার দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার কাঁচা বাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ওষুধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে।
ঘ. কেবলমাত্র কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ খোলা থাকবে। সকল হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কোভিড ১৯ মোকাবেলায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা প্রদান এর আওতার বাইরে থাকবে।
ঙ. জরুরি সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত সংবাদকর্মীদের রেড জোনে কাজ করার জন্য কক্সবাজার প্রেসক্লাব কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে এবং কোভিড ১৯ মোকাবিলায় রেড জোনে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কক্সবাজার সদর কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতিপত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হবে।
চ. সকল প্রকার গণপরিবহন টার্মিনাল রেড জোনের বাইরে স্থানান্তর করতে হবে।
ছ. প্রকাশ্য স্থানে বা গণজমায়েত করে কোনও প্রকার ত্রাণ, খাদ্য সামগ্রী বা অন্য কোনও পণ্য বিতরণ করা যাবে না।

/এমআর/

লাইভ

টপ