করোনা পরীক্ষার নমুনা সংগ্রহ ও টাকার বিনিময়ে পরীক্ষার রিপোর্ট প্রদানসহ একাধিক অভিযোগ আমলে নিয়ে নারায়ণগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জেকেজির কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ। বুধবার (২৪ জুন) থেকে শহরের নারায়ণগঞ্জ হাই স্কুল ও এমডব্লিউ স্কুলে জেকেজির নমুনা সংগ্রহের কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২৩ জুন ঢাকায় জেকেজির এক কর্মকর্তা গ্রেফতার হওয়ার পরেই গ্রাহকদের অভিযোগ আমলে নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেন সিভিল সার্জন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘জেকেজির বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জে তিনটি গুরুতর অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এর মধ্যে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে করোনার রেজাল্ট প্রদান, নমুনা সংগ্রহ করে তার কোনও রেজাল্ট না দেওয়া এবং দুটি কেন্দ্রে সকাল ৯টা থেকে নমুনা সংগ্রহের কথা বলে বেলা ১২টায় তারা কার্যক্রম শুরু করতো। এমন বেশকিছু অভিযোগ আমরা পেয়ে আসছিলাম।’
নারায়ণগঞ্জ থেকে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সিভিল সার্জন বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত এই ধরনের কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি। বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে আমরা জানতে পেরেছি। আপাতত তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মন্ত্রণালয় পাঠানো হচ্ছে এবং কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ‘জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা’ (জেকেজি) এর নারায়ণগঞ্জ জেলার কো-অর্ডিনেটর সায়েমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২৩ জুন) করোনার উপসর্গ থাকা রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে কোনও ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই ভুয়া রিপোর্ট প্রদানকারী প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে রাজধানীর তেজগাঁও থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আরিফুল চৌধুরী জেকেজি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আর হুমায়ুন কবীর ও তানজিনা দম্পতি জেকেজির সাবেক স্টাফ।
পুলিশ জানায়, এই চক্রটি আগে জেকেজি’র হয়ে করোনার উপস্বর্গ রয়েছে এমন লোকজনের নমুনা সংগ্রহের কাজ করতো। করোনা পরীক্ষা বিষয়ে আইইডিসিআরের অনুমোদন রয়েছে জেকেজি’র। সম্প্রতি ওই চক্রের কিছু সদস্যরা জেকেজি থেকে চাকরি ছেড়ে দেয়। এরপর নিজেরাই অনলাইনে ‘হেলথ কেয়ার’ ও ‘বুকিং বিডি’ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয় বলে বিজ্ঞাপন দেয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই বিজ্ঞাপন দেখে অনেকেই করোনা পরীক্ষা করার জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এই প্রতারক চক্রের সদস্যরা নমুনা সংগ্রহের পর কোনও ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই যাদের উপসর্গ রয়েছে তাদের পজিটিভ ও যাদের উপসর্গ নেই তাদের নেগেটিভ রিপোর্ট মেইল করে জানিয়ে দিতো। এজন্য প্রত্যেক ব্যক্তির কাছ থেকে তারা পাঁচ থেকে ১০ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নিতো।
এই প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় সন্দেহজনক কোভিড-১৯ রোগীর নমুনা সংগ্রহ, কেন্দ্র স্থাপন ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ারের অনুমোদন বাতিল করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। বুধবার ( ২৪ জুন) অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষার জন্য অনুমতি পায় জেকেজি হেলথকেয়ার। বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহের জন্য ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের পৃথক ছয়টি স্থানে ৪৪টি বুথ স্থাপন করেছিল তারা। এসব এলাকা থেকে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৩৫০ জনের নমুনা সংগ্রহ করতো জেকেজি।
আরও পড়ুন-
টাকার বিনিময়ে রিপোর্ট: উপসর্গ থাকলে পজিটিভ, না থাকলে নেগেটিভ
করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট: জেকেজিকে বাদ দিলো স্বাস্থ্য অধিদফতর








