করোনা উপসর্গে ৭ জেলায় ১৪ জনের মৃত্যু

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৬:৫১, জুলাই ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৬:৫১, জুলাই ০১, ২০২০

করোনাভাইরাসকরোনার উপসর্গ নিয়ে দেশের সাত জেলায় নতুন করে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে  কুমিল্লায় চার জন, বরিশালে তিন জন, ফেনীতে দুই জন মুক্তিযোদ্ধাসহ তিন জন এবং  মেহেরপুর, কুড়িগ্রাম, ঝিনাইদহ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় একজন করে রয়েছেন। আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:  

কুমিল্লা

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে একশিশু ও দুই নারীসহ আরও চার জন মারা গেছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মেডিক্যালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যান। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মুজিবুর রহমান এ তথ্য জানান।

মৃত্যুবরণকারীরা হলেন—কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দ্বিতীয় মুরাদপুরের জাকিরের শিশু সন্তান আইরিন (৮), কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার হাজী আবদুল মালেকের মেয়ে আয়শান বিবি (৬০), কুমিল্লা সদর উপজেলার দৌলতপুর এলাকার সিরাজ উদ্দিনের ছেলে সেলিম হোসাইন (৫৩) এবং চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার আমিনুল্লাহর মেয়ে নূরজাহান (৬৫)। 

মেহেরপুর

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে জয়নাল আবেদীন (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ১২টায় নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার বামুন্দী পশ্চিমপাড়ার খোদা বক্সের ছেলে। গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রিয়াজুল আলম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, জয়নাল আবেদীনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর করোনা আক্রান্তে মৃত্যু হয়েছে কিনা বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকদিন ধরে জয়নাল সর্দি, কাশি ও জ্বরে ভুগছিলেন।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেলিম শাহনেওয়াজ বলেন, 'মৃত্যুর বিষয়টি এখনও জানতে পারিনি। তবে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলে ইসলামী ফাউন্ডেশনের সদস্যরা দাফনের ব্যবস্থা করবেন।' 

ফেনী

ফেনীতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দুই মুক্তিযোদ্ধাসহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে সোনাগাজী উপজেলা সদর ইউনিয়নের মোজাহিদ ওরফে জাহেদ চৌধুরী (৮০) এবং দুলাল পাটোয়ারী (৭০) মারা যান। তারা দু’জনই মুক্তিযোদ্ধা। অপরদিকে, পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জান্নাতুল ফেরদাউস নামে এক নারী মারা গেছেন।

সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুল আরেফিন মৃত দুই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, 'সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের বেচু পাটোয়ারী বাড়ির বাসিন্দা দুলাল সম্প্রতি জ্বর, সর্দি, কাশিসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গে ভুগছিলেন। এ সময়ে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে  চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। সোমবার রাতে দুলালের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে ফেনীর অদূরে অ্যাম্বুলেন্সে তার মৃত্যু হয়।'

অপরদিকে শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও বমিসহ করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন ছিলেন সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের ছাড়াইতকান্দি গ্রামের মুজিব আলী চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা জাহেদ চৌধুরী। শ্বাসকষ্ট বেড়ে অবস্থার অবনতি হলে সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয় বলে জানান আরেফিন।

সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অজিত দেব বলেন, 'করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কারও উপসর্গ না থাকায় তাদের নমুনা সংগ্রহ নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে গার্ড অব অনার দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দুই মুক্তযোদ্ধাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।’

এছাড়া পরশুরামে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে জান্নাতুল ফেরদাউস নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানান অজিত দেব। সোমবার রাতে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া জান্নাতুল পৌরসভার উত্তর কোলাপাড়া গ্রামের মো. শাহজাহান মিয়ার মেয়ে।

পরশুরাম করোনা দাফন স্বেচ্ছাসেবক টিম প্রধান ইয়াছিন শরিফ মজুমদার জানান, রাতে পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইয়াছমিন আকতারের নির্দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জানাজা শেষে মরদেহ পৌরসভার উত্তর কোলাপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

কু‌ড়িগ্রাম

কু‌ড়িগ্রা‌মে ক‌রোনা উপসর্গ নি‌য়ে সাহেরা বেগম (৫৫) না‌মে এক নারীর মৃত‌্যু হ‌য়ে‌ছে। সোমবার (২৯ জুন) রাতে জ্বর, স‌র্দি ও শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নি‌য়ে রংপুর মেডিক্যাল ক‌লেজ হাসপাতা‌লে তি‌নি মারা যান।

সদর উপ‌জেলা স্বাস্থ‌্য ও প‌রিবার প‌রিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম এ তথ‌্য জা‌নি‌য়ে‌ছেন।

সা‌হেরা বেগম জেলা শহ‌রের পুরাতন রে‌জি‌স্ট্রি অ‌ফিস পাড়ার (বইঘর লাই‌ব্রেরির বিপরী‌তে) মু‌নির হো‌সে‌নের স্ত্রী ব‌লে জানা গে‌ছে।

স্বাস্থ‌্য বিভাগ জানায়, ক‌রোনা উপসর্গ থাকায় গত ২২ জুন ওই নারীসহ তার বা‌ড়ির সব সদ‌স্যের নমুনা নেওয়া হয়। কিন্তু এখনও ফল পাওয়া যায়‌নি। পরে ওই নারীর অবস্থার অবন‌তি হ‌লে তা‌কে রংপুর মে‌ডি‌ক্যাল কলেজের ক‌রোনা ইউ‌নি‌টে নেওয়া হয়। সেখা‌নে চি‌কিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রা‌তে তার মৃত‌্যু হয়।

সদর উপ‌জেলা স্বাস্থ‌্য ও প‌রিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, ক‌রোনা উপসর্গসহ ওই নারী ডায়া‌বে‌টিক, উচ্চ রক্তচাপ ও কিড‌নি সমস‌্যায় ভুগ‌ছি‌লেন। তার নমুনা পরীক্ষার ফল এখনও পাওয়া যায়‌নি। ফ‌লে তি‌নি ক‌রোনা প‌জি‌টিভ ছি‌লেন কিনা তা নি‌শ্চিত হওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে স্বাস্থ‌্যবি‌ধি মে‌নে ওই নারীর দাফন সম্পন্ন করা করা হ‌য়ে‌ছে ব‌লেও জানান ডা. নজরুল।

ঝিনাইদহ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে আব্দুর রহমান (৬৫) নামে আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে তার মৃত্যু হয়। আব্দুর রহমান হেলাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ নানা উপসর্গে ভুগছিলেন।

মৃত ব্যক্তির ছেলের স্ত্রী শিউলী বেগম জানান, তার শ্বশুরের হাই ব্লাড প্রেসার ছিল। এছাড়া গত কয়েকদিন আগে পাতলা পায়খানা হয়। গতকাল (২৯ জুন) থেকে জ্বর ও হালকা শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। সকালে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। তার শরীরে করোনা আছে কিনা তা পরীক্ষার জন্য ডাক্তাররা মৃতদেহ হাসপাতালে রেখে দিয়েছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সুলতান আহমেদ জানান, রোগীর জ্বর, শ্বাসকষ্টসহ বেশকিছু রোগ ছিল। তকে করোনা সাসপেক্ট করতেই পারি। এজন্য রোগীর শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট আসলে জানা যাবে তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কিনা।

এছাড়া গত রবিবার (২৮ জুন) রাতে একই গ্রামের কাপড় ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ (৫০) করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান। তিনি হেলাই গ্রামের মতলেব মণ্ডলের ছেলে। মোস্তাক আহমেদও জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন।

বরিশাল

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ চার জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুজন বৃদ্ধ মারা যান। আর সোমবার (২৯ জুন) এক পুলিশ কর্মকর্তাসহ মারা যান আরও দুজন। তাদের তিন নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। এদের মধ্যে আগেই পরীক্ষা করা একজনের করোনা পরীক্ষার ফল পজিটিভ এসেছে। হাসপাতালটির রিচালক ডা. বাকির হোসেন এসব তথ্য জানান।

পরিচালক জানান, সোমবার (২৯ জুন) দুপুর ১টায় করোনার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার ফুলঝড়া গ্রামের আব্দুস সালাম (৬০)। মঙ্গলবার দুপুর ২টায় তিনি মারা যান। একই দিন বিকাল ৪টা ৪৫ মিনিটে মারা যান বরগুনার বামনার পূর্ব সফিপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফা (৬০)। তাকে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ভর্তি করা হয়েছিল।

বাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে একজন এএসআইসহ যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে, এর মধ্যে একজন করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। তিনি জানান, সোমবার বিকাল ৪টায় এএসআই মেজবাহ উদ্দিনকে (৫৪) করোনা ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান। মেজবাহ উদ্দিন বরগুনা জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন। তার নমুনা সংগ্রহ করে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, এ দিন সকাল সাড়ে ৯টায় মারা যান করোনায় আক্রান্ত শাহানাজ বেগম (৬২)। তিনি পটুয়াখালীর গলাচিপার বিআই রোডের বাসিন্দা রেজাউল ইসলামের স্ত্রী। গত ১৯ জুন তাকে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়।

হাসপাতালটির পরিচালক জানান, করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৯৭ জন। এদের মধ্যে ৩৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে করোনা উপসর্গ নিয়ে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম কাজি আলী আজগর(৮৫)।  আজ সোমবার সকাল ১০ টার দিকে তিনি মারা যান। উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির শরীরে জ্বর ও হালকা শ্বাসকষ্ট ছিল। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল হামিদ।

মৃত বৃদ্ধের বাড়ি উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের পোল্লাডাঙ্গা নতুন হাজিপাড়া গ্রামে। তার বাবা ছিলেন মৃত. কাজী আব্দুর রশিদ।

ডা. আব্দুল হামিদ জানান, সকাল ১০ টার দিকে অচেতন অবস্থায় জ্বর ও হালকা শ্বাসকষ্ট উপসর্গ নিয়ে কাজী আলী আজগরের পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তির জন্য নিয়ে আসলে; কর্তব্যরত চিকিসৎক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়।  তিনি আরও বলেন, ‘করোনার নিয়ম মেনে তার মরদেহ পাঠানো হয়েছে এবং দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।’

উল্লেখ্য, গত ২১ জুন কাজী আলী আজগরের ছেলে কাজী মুসফিকুর রহমানের (৪৩) করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এর আগে জেলায় পাঁচজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেও পরবর্তীতে তাদের পাঁচজনেরই রির্পোট নেগেটিভ আসে বলে জানিয়েছেন জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান সিভিল সার্জন ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরী।

সিভিল সার্জন আরও জনান, ‘বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১০১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৬১ জন।’

/আইএ/

লাইভ

টপ