রাজশাহীতে করোনা আক্রান্ত হাজার ছাড়ালো, টাঙ্গাইল-বগুড়া-কুড়িগ্রামেও রোগী বেড়েছে

Send
রাজশাহী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:০৩, জুলাই ০৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:০৭, জুলাই ০৫, ২০২০

 করোনাভাইরাস (গ্রাফিক্স: মারুফ রেহান)

রাজশাহী জেলায় কোভিড রোগীর সংখ্যা হাজার ছাড়ালো। রাজশাহীর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী রাজশাহীতে করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১০ জনে। এরমধ্যে সর্বাধিক রাজশাহী মহানগরীতে কোভিড রোগীর সংখ্যা ৭৩৮ জন। রাজশাহীর ৯ উপজেলায় করেনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ২৭২ জন।

রামেকের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. বুলবুল হাসান জানান, শনিবার (০৪ জুলাই) তাদের ল্যাবে ১৮৮ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩৭ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। শনাক্তদের মধ্যে রাজশাহীর ২১ জন এবং নাটোর জেলার ১৬ জন।

ডা. বুলবুল হাসান বলেন, রাজশাহীর ২১ জনের মধ্যে মহানগরীর ১২ জন, তানোর উপজেলার ছয়জন এবং দুর্গাপুরের তিনজন। আক্রান্তদের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিতে স্ব স্ব জেলার সিভিল সার্জনকে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জনের তথ্যমতে, রাজশাহী জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন। এরমধ্যে নগরীতে ৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ১৪৫জন।

টাঙ্গাইলে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৭৩০

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, টাঙ্গাইলে নতুন করে আরও ৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় মোট করোনা শনাক্তের  সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৩০ জন।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহীদুজ্জামান এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

নতুন শনাক্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১০ জন, মির্জাপুরে ১০ জন, ধনবাড়ীতে তিনজন, সখীপুরে দুইজন, ভূঞাপুরে সাতজন ও গোপালপুর উপজেলায় একজন রয়েছেন।

ডা. মো. ওয়াহীদুজ্জামান জানান, জেলায় করোনা আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৩ জনের। আর সুস্থ হয়েছেন ৩১৮জন। চিকিৎসাধীন ৩৯৯ জন।

কুড়িগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ ছাড়ালো

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ২০০ অতিক্রম করেছে। আক্রান্ত বেশিরভাগ রোগীরই তেমন কোনও উপসর্গ নেই। জেলায় এখন পর্যন্ত কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে তিনজনের-সদর উপজেলায় এক নারী এবং চিলমারী উপজেলার দুই পুরুষ।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, জেলায় পিসিআর ল্যাব না থাকায় নমুনা পরীক্ষার জন্য রংপুর ও ঢাকা পিসিআর ল্যাবের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। অনেক সময় নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানোর দুই সপ্তাহ পর ফল পাওয়া যাচ্ছে। ৩ জুলাই পর্যন্ত জেলায় ৩ হাজার ১৮৪ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরমধ্যে ২০৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন ৯৬ জন। বাকিরা আইসোলেশন ও কোয়ারেন্টিনে আছেন। তবে আক্রান্ত অধিকাংশেরই কোনও উপসর্গ নেই।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, ২ জুলাই পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদনে ১৪৯ জন করোনা পজেটিভ হয়েছেন। ৩ জুলাই ঢাকা ও রংপুর পিসিআর ল্যাব হতে পাওয়া প্রতিবেদনে একসঙ্গে ৫৫ জনের করোনা পজেটিভ হওয়ার রিপোর্ট আসে। এ দিনই জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দুইশ অতিক্রম করে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, উপজেলায় এ পর্যন্ত ৬৬ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন।

চিলমারীতে ৩ জুলাই ১৭ জনের করোনা পজেটিভ হওয়ার ফল আসে। এ নিয়ে উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩। এরমধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, আক্রান্ত বেশিরভাগ ব্যক্তিরই কোনও উপসর্গ নেই।

রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোমেনুল ইসলাম জানান, রৌমারীতে এ পর্যন্ত ১০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের বেশিরভাগই ঢাকা ফেরৎ।

নাগেশ্বরীতে শুক্রবার (৩ জুলাই) পাওয়া প্রতিবেদনে নতুন করে ৫ জন করোনা আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। যাদের নমুনা সংগ্রহের সময় ১৪ দিন পার হয়েছে। উপজেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২০। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে তেমন কোনও গুরুতর উপসর্গ নেই।

সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান জানান, ‘নিজস্ব পিসিআর ল্যাব না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে  নমুনা পরীক্ষার ফল পেতে বিলম্ব হচ্ছে। আমরা পিসিআর ল্যাবের জন্য আবেদন করেছি। জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বেশির ভাগই উপসর্গ ছাড়া ভালো আছেন। তবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজন মত স্বাস্থ্য সেবা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

বগুড়ায় ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ৪৭ জন

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, বগুড়ায় শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ নারী ও দুই শিশুসহ ৪৭ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে গত ৯৫ দিনে জেলায় করোনা পজিটিভ হয়েছেন তিন হাজার ২৪৬ জন। সুস্থ হয়েছেন ৮৬০ জন ও মারা গেছেন ৬০ জন।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এ তথ্য দিয়েছেন।

বগুড়া সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, শুক্রবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে ১৮৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২৭ জনের করোনা শনাক্ত হয়। টিএমএসএস মেডিক্যাল কলেজ ও রফাতউল্লাহ কমিউনিটি হাসপাতাল পিসিআর ল্যাবে ৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। বগুড়ার ২৭ জনের মধ্যে ২০ জন করোনা পজিটিভ হয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি ল্যাবের পরীক্ষায় মোট ৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত হন। এর মধ্যে সদরে ৩২ জন, গাবতলীতে সাতজন, শাজাহানপুরে পাঁচজন, শিবগঞ্জ, আদমদীঘি ও নন্দীগ্রামে একজন করে। এ নিয়ে জেলায় মোট আক্রান্ত  তিন হাজার ২৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ দুই হাজার ১৯৮ জন, নারী ৮৭৭ জন ও শিশু ১৭১ জন। সদরে দুই হাজার ২৪৪ জন আক্রান্ত, গাবতলীতে ১৭৮ জন, শাজাহানপুরে ১৬৬ জন, শেরপুরে ১৩২ জন, শিবগঞ্জে ৮৩ জন, কাহালুতে ৮০ জন, সারিয়াকান্দিতে ৭৮ জন, দুপচাঁচিয়ায় ৭২ জন, সোনাতলায় ৭০ জন, ধুনটে ৬৮ জন, নন্দীগ্রামে ৩৮ জন ও আদমদীঘিতে ৩৭ জন।

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬১ জনসহ এ পর্যন্ত ১৯ হাজার ৬০২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফল পাওয়া গেছে ১৭ হাজার ৩৪০ জনের। নমুনা জটে পড়েছে দুই হাজার ২৬২ জনের। এ সময়ে আরও ১৫ জন সুস্থ হওয়ায় মোট সুস্থের সংখ্যা ৮৬০ জন। এ জেলায়  কোভিড ১৯ এ মোট মারা গেছেন ৬০ জন। বর্তমানে আইসোলেশন ও বাড়িতে চিকিৎসাধীন দুই হাজার ৩২৬ জন।

হিলিতে দুজন করোনা পজিটিভ শনাক্ত

হিলি প্রতিনিধি জানান, দিনাজপুরের হিলিতে নতুন করে আরও দুজন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তবে তারা দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দা, করোনা আক্রান্ত কারও সংস্পর্ষে আসায় তারা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান চিকিৎসকেরা।

শনিবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর এম রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টে তাদের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তারা দুজনেই হিলির স্থানীয় বাসিন্দা।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. নাজমুস সাঈদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, করোনাভাইরাসের উপসর্গ থাকায় গত ২৩ জুন ও ১ জুলাই তাদের নমুনা সংগ্রহ করে দিনাজপুর এম রহিম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। একইসঙ্গে তাদের দুজনকে আমাদের তত্ত্বাবধানে তাদের নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছিল। নমুনা পরীক্ষায় জট থাকায় ফলাফল পেতে বিলম্ব হয়, আজ নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসলে তাতে দূজনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তবে তারা দুজনেই বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রাফিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, আজ হিলিতে নমুনা পরীক্ষায় দুজনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। কিন্তু রিপোর্ট আসতে দেরি হওয়ায় ও স্যাম্পল প্রদানের তারিখ হতে ইতোমধ্যেই তার নেগেটিভ হওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে, তাই তাকে নেগেটিভ হিসেবে ধরা হচ্ছে, শুধু ঘোষণা করা বাকি। অপরজনের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে, তিনি নিজ বাড়িতেই আইসোলেশনে থাকবেন।

/আরআইজে/টিএন/

লাইভ

টপ