ধর্ষণ থেকে বাঁচতে লঞ্চ হতে মেঘনায় ঝাঁপ!

Send
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০২:০৫, জুলাই ০৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:১৪, জুলাই ০৬, ২০২০

ভোলা

ধর্ষণের শিকার হতে যাচ্ছে বুঝতে পেরে চলন্ত লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছে ভোলার এক কিশোরী। শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায়  ভোলার তজুমদ্দিন ঘাট থেকে ছাড়া কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে। পানিতে পড়ার পর  লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার না করেই চলে যায়। অনেক পরে জেলেদের লঞ্চে উদ্ধার হওয়ার পর তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ওই কিশোরী রবিবার (৫ জুলাই) এসব অভিযোগ করেছে।

হাসপাতালে ভর্তি কিশোরী জানায়, কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার সন্ধ্যায় তজুমদ্দিন ঘাট থেকে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে ওঠে সে। তবে লঞ্চে ওঠার পর থেকেই লঞ্চটিরই কয়েকজন স্টাফ তাকে একটু পর পর বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয় এবং উত্ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে লঞ্চের কেবিনে তাকে ঢোকানোর জন্য হাত ধরে টানাটানি শুরু করে। প্রথম সে বাধা দেয়। এরপর চিৎকার করে। এরপর  নিজের মানইজ্জত রক্ষা করতে নিরূপায় হয়ে মেঘনা নদীতে ঝাঁপ দেয়। সে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পরপরই লঞ্চ কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করতে একটি বয়া ফেললেও পানির স্রোত বেশি থাকায় সে বয়া ধরতে পারেনি। তবে তাকে উদ্ধার না করেই ঢাকার পথে চলে যায় লঞ্চটি।

তার দাবি, এ অবস্থায় নদীতে অনেকক্ষণ সাঁতার কেটে চিৎকার করতে থাকে সে। এরপর জেলেদের একটা ট্রলার তাকে দেখে উদ্ধার করে।

উদ্ধার করা নৌকার জেলে রায়হান জানান, তারা নদীতে মাছ ধরার জন্য ট্রলার প্রস্তুত করছিলেন। এমন সময় নদীর মাঝে মেয়েটির ‘বাঁচাও বাঁচাও’ চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে যান এবং মেয়েটিকে উদ্ধার করে। পরে তাকে মিজান তালুকদারসহ স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করে।

তজুমদ্দিন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার জানান, জেলেরা উদ্ধারের পর বিষয়টি তাকে জানায়। পরে তিনি ইউএনও এবং ওসির সঙ্গে কথা বলে মেয়েটিকে হাসপাতাল ভর্তি করান। তাদের সামনেও লঞ্চ স্টাফদের টানা-হ্যাঁচড়ার কথা মেয়েটি বলেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কবির সোহেল জানান, কিশোরী নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার সময় ডান হাতে আঘাত পেয়েছে। জেলেরা নদী থেকে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত আছে।

তজুমদ্দিন থানার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান, চিকিৎসা শেষে কিশোরীর বক্তব্য নেওয়ার পর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া অভিভাবকদের খুঁজে তাদের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হবে।

একই উপজেলার নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, কিশোরীকে সুস্থ করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হাসপাতালকে বলা হয়েছে। মেয়ের বক্তব্য অনুযায়ী দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে লঞ্চের সকল স্টাফকে ডেকে পাঠানো হবে।

তবে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের মালিক মো. ছালাউদ্দিন মিয়া জানান, লঞ্চের কোনও স্টাফ এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। মেয়েটি ঝাঁপ দেওয়ার পর লঞ্চ থেকে বয়া ফেলা হয়েছিল। ধরতে পারেনি। সঙ্গে সঙ্গে অন্য একটি জেলে ট্রলার গিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে।

/টিএন/

লাইভ

টপ