করোনাকালেও টেকনাফ স্থলবন্দরে কোনও ছাড় নেই, দুশ্চিন্তায় ব্যবসায়ীরা

Send
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:৩৫, জুলাই ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৪০, জুলাই ০৭, ২০২০

টেকনাফ স্থলবন্দরে স্তূপ করা কাঠ 

করোনার কারণে গত দুই মাস ধরে কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দরে জমে গেছে বিপুল কাঠের স্তূপ।  মিয়ানমার থেকে আনা এসব কাঠ দেশজুড়ে লকডাউনের ফলে ট্রাক না পাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ  করতে পারেননি আমদানিকারকরা। তখন সরকারের পক্ষ থেকে করোনার জন্য সব কিছু ছাড় ওেয়ার কথাও শোনা গিয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরেও ব্যবসায়ীরা পেয়েছেন এমন সহযোগিতা। কিন্তু, টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ গোঁ ধরে আছেন ভাড়া-মাশুল সব স্বাভাবিক সময়েই হারেই দিতে হবে। কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের এমন কঠোর আচরণে আমদানিকারকরা পড়েছেন চরম বেকায়দায়। আমদানি পণ্য বৃষ্টি ভিজে নষ্ট হচ্ছে, তা দ্রুত সরাতেও পারছেন না। আবার টানা দুই মাস দেশ ‘বন্দি’ থাকার কারণে যে ভাড়া ও মাশুল হয়েছে তা দিতেও পারছেন না। বিষয়টির সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।   

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা মোকাবিলায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সরকারি নিদের্শনায় ৫ এপ্রিল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। যাতে বলা হয় সাধারণ ছুটির সময় বন্দরে যেসব কন্টেইনারবাহী জাহাজ আসবে সেসব কন্টেইনার ছুটির সময়ে খালাস করা হলে শতভাগ চার্জ মওকুফ করা হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে এমন নির্দেশনা থাকলেও টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া ও মাশুল অর্থাৎ চার্জ আদায় করছে।

এ অবস্থায় ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট চেয়ারম্যান বরাবর কাঠের চার্জ মওকুফ চেয়ে ৭ জুন একটি লিখিত আবেদন করে টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ। এখনও তার সুরাহা  হয়নি।

এ প্রসঙ্গে টেকনাফ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক এহতেশামুল হক বাহাদুর বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশনায় গত দুই মাস লকডাউনে থাকতে হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীরা আমদানি করা কোনও কাঠ কোথাও সরবরাহ করতে পারেননি। কারণ, লকডাউনের সময় ট্রাক পাওয়া যায়নি। নিত্যপণ্যের দোকান ছাড়া সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। কিন্তু, এরপর সেই কাঠ গত জুনে ছাড় করাতে গেলে আগের সমান চার্জ আরোপ করে স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ। দুই মাসের এই অতিরিক্ত চার্জ আদায় করলে ব্যবসায়ীদের লাখ লাখ টাকা লোকসান গুনতে হবে। আমরা তো পরিস্থিতির শিকার। সরকারের নির্দেশেই আমরা তখন ব্যবসা বন্ধ রেখেছি। তাহলে এখন কেন  এমন চাপ দেওয়া হবে?

টেকনাফ স্থলবন্দর

তিনি আরও বলেন, যদি বৃহত্তম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সেখানকার ব্যবসায়ীদের স্বার্থে চার্জ মওকুফ করতে পারে তাহলে টেকনাফ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ কেন পারবে না? আমরা চার্জ মওকুফ চেয়ে আবেদনও করলেও কোনও কাজ হয়নি। এভাবে চলতে থাকলে কাঠ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হবে।

স্থলবন্দর সূত্র জানায়, মিয়ানমার থেকে আসা বিভিন্ন প্রকারের প্রায় ৫০ হাজার পিস কাঠ টেকনাফ স্থলবন্দরে পড়ে আছে। এসব কাঠ দেখভাল করছেন বন্দর কর্তৃপক্ষ। এসব কাঠ থেকে কোনও প্রকার অতিরিক্ত চার্জ আদায় করা হচ্ছে না। করোনার আগে যে চার্জ নেওয়া হতো, তাই নেওয়া হচ্ছে। মিয়ানমার কাঠ রফতানি না করলেও সেখান থেকে কোটি টাকার কাঠ টেকনাফ স্থলবন্দরে আসছে। তার বিপরীতে সরকারও রাজস্ব পাচ্ছে।

কাঠ ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মনির বলেন, ‘আমার লাখ টাকার কাঠ বন্দরে পড়ে আছে। বৃষ্টির কারণে এসব কাঠের অধিকাংশ নষ্ট হওয়ার পথে। তার ওপর বন্দর কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত চার্জ নিচ্ছে। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।

টেকনাফ স্থলবন্দর ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন চৌধুরী অবশ্য কাঠ ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘কাঠ থেকে অতিরিক্ত চার্জ আদায়ের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা আগের নিয়মেই চার্জ নিচ্ছি। এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনার কোনও চিঠি এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চার্জ মওকুফ সম্পর্কে অবগত নই।’

তিনি আরও জানান, টেকনাফ সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে থেকে কাঠের চার্জ মওকুফের আবেদন পেয়েছি। সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনও নির্দেশনা আসেনি।

 

/আরআইজে/টিএন/

লাইভ

টপ