কোরবানির মাঠে মেসি!

Send
বিজয় রায় খোকা, কিশোরগঞ্জ
প্রকাশিত : ০৯:৩৫, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৫, জুলাই ১৫, ২০২০

কোরবানির হাটে মেসি-২কোরবানির মাঠে মেসি, শুনলেই চোখ কপালে ওঠার কথা। এ মেসি আসলে সে মেসি না। এ মেসি কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা একটি গরু। খুবই শান্ত স্বভাবের হওয়ায় গরুর মালিক দুলাল মিয়া নাম রাখেন ‘মেসি-২’। পরম যত্নে লালন-পালন করা মেসির দাম হাঁকছেন ২৫ লাখ টাকা।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার ডুলিহর গ্রামের ভাই ভাই খামারে লালন-পালন করা হয় ষাঁড়টিকে। এটি বিক্রির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ‌্যমসহ বিভিন্ন জায়গায় বিজ্ঞাপনও দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ‘মেসি-২’কে কিনতে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে পাইকাররা যোগাযোগ করছেন গরুর মালিকের সঙ্গে। প্রতিদিনই ‘মেসি-২’ কে দেখতে খামারে লোকজন ভিড় করছেন।

কোরবানির হাটে মেসি-২

বিশালদেহি ‘মেসি-২’ এর দৈর্ঘ্য ৯ ফুট, উচ্চতা ৫ ফুট। ওজন প্রায় একহাজার ৪০০ কেজি। কালো, সাদা আর ধূসর রঙের সুঠামদেহি আমেরিকার ব্রাহামা জাতের গরুটি সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে খামারে মোটাতাজা করা হয়েছে।

দুলাল মিয়ার খামারে ‘মেসি-২’ ছাড়াও ব্রাহামা ও অন‌্যান‌্য জাতের আরও ছোট বড় ১৮টি গরু রয়েছে। তবে এবছর শুধু ‘মেসি-২’ বিক্রি করা হবে। গরুটিকে কোনোপ্রকার স্টেরয়েড বা ওষুধ ব্যবহার না করে সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটা তাজা করা হয়েছে। তার খামারের প্রতিটি গরুকে তিনি দেশীয় পদ্ধতিতে বড় করে তুলছেন। খাবার হিসেবে চিড়া, ভুট্টার গুড়া, গমের গুড়া, ভূষি, কলা, গাজর দিয়েছেন। তাছাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সার্বিক পরামর্শও নিয়েছেন। 

কোরবানির হাটে মেসি-২

গরুটির নাম ‘মেসি-২’ রাখার কারণ সম্পর্কে দুলাল মিয়া বলেন, ‘আসলে গরুটি জন্মের পর থেকেই অনেক শান্ত স্বভাবের। তাকে লালন-পালন করতে গিয়েও আমাকে সমস্যায় পড়তে হয়নি। তাই নাম রেখেছি মেসি-২।’ 

গরুর খামার সম্পর্কে তিনি বলেন, টেলিভিশনে আমেরিকার ব্রাহামা জাতের গরু সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন দেখে একটি খামার দেওয়ার চিন্তা করি। পরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের সহযোগিতায় আমি একটি খামার গড়ে তুলি।

কোরবানির হাটে মেসি-২

বিশাল আকৃতির এই গরুটির মূল‌্য ২৫ লাখ টাকা চাইছেন দুলাল মিয়া। তবে ২০ লাখ টাকা হলেও তিনি মেসিকে বিক্রি করে দেবেন। দেশের যেকোনও জায়গা থেকে কেউ গরুটি কিনলে তিনি নিজ দায়িত্বে সেখানে পৌঁছে দেবেন।

হোসেনপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: আব্দুল মান্নান জানান, এ উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ১১৬টি খামার রয়েছে। সেখানে অনেক জাতের গরুও রয়েছে। কিন্তু তার মধ‌্যে দুলাল মিয়ার খামারের গরু উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড়। তিনি গরুটিকে সঠিকভাবে লালন-পালন করেছেন। আশা করছি কোরবানির হাটে ‘মেসি-২’ গরুটি ন্যায্য মূল্যে বিক্রি হবে। তাতে আরও অনেক খামারির গরু মোটা তাজা করণে আগ্রহ বাড়বে।

কোরবানির হাটে মেসি-২

তিনি আরও জানান, এবারে কোরবানি ঈদের জন্য উপজেলায় ৫ হাজার ৭৯০টি পশু প্রস্তত রাখা হয়েছে।

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ