ডিমলায় তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচে

Send
নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:৩৯, জুলাই ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৯, জুলাই ১৬, ২০২০

নীলফামারীতে তিস্তার পানি বিপদসীমার নিচেনীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ২৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ওই পয়েন্টে বিপদসীমা ৫২.৬০ সেন্টিমিটার। এতে করে ওই এলাকায় বন্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে কিছু কিছু ত্রাণ দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বন্যা পরিস্থিতি থেকে স্ত্রায়ী পরিত্রাণ চান বানভাসিরা।

পাউবোর গেজ পাঠক নুরুল ইসলাম জানান, গত বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল ৯টায় তিস্তার পানি বিপদসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এরপর রবিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় ৪০ সেন্টিমিটার এবং সোমবার (১৩ জুলাই) বিপদসীমার ৫২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বন্যার পানি বয়ে যায়। এর একদিন পরেই মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।

পাউবোর পানি পরিমাপক ও উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রশিদ জানান, ডালিয়া পয়েন্টে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নদীবেষ্টিত নিম্নাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বানভাসি পরিবারগুলো সিমাহীন দুর্ভোগে রয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, ডিমলায় চার দিনের বৃষ্টিপাতের বন্যায় এ পর্যন্ত ৬ হাজার ২৭০টি পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১৪৭টি পরিবার।  ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের জন্য নতুন করে ১১০ মেট্রিক টন চাল, নগদ এক লাখ টাকা ও এক হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

 স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, সোমবারের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িঘর স্যাঁত স্যাঁতে থাকায় তারা রান্নার চুলা জ্বালাতে পারছে না। তারা শুকনো খাবার খেয়ে দিন কাটাচ্ছে। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। গবাদি পশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে। শিশু ও বয়স্করা বেশি বিপদে রয়েছে। তবে বাঁধে আশ্রিত লোকজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছে।

উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, চাতুনামা, ভেন্ডাবাড়ী গ্রামে নদী ভাঙনে ৮৭ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে।

টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, চড়খড়িবাড়ী, পূর্বখড়িবাড়ী এলাকায় ২৪টি পরিবার বাড়ি হারিয়েছে।

খালিশা চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান জানান, বাইশপুকুর ও ছোট খাতায় ১৩ পরিবার এবং খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলামের দাবি ২৩ পরিবার ঘর বাড়ি হারিয়েছে। এ নিয়ে উপজেলায় ১৪৭ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, আজ দুপুর ১২টায় বন্যা পরিস্থিতি ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৩০) অর্থাৎ ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আশা করি, উজানের পানি ও আকাশের বৃষ্টি বন্ধ হলে, দুই এক দিনের মধ্যে বানভাসিরা স্বস্তি ফিরে পাবে। বানভাসিদের পুনর্বাসন জরুরি বলে মনে করেন তারা।

ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের দোহল পাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলাম জানান, বর্ষা শুরু হলেই তিস্তা পাড়ের মানুষকে আতঙ্কে থাকতে হয়। এ জন্য স্থায়ী সমাধানের প্রয়োজন। ত্রাণ ও শুকনো খাবার দিয়ে জীবন চলে না। আমরা ত্রাণ চাই না, স্থায়ী সমাধান চাই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জয়শ্রী রানী রায় মুঠোফোনে জানান, বানভাসি মানুষের জন্য ১১০ মেট্রিক টন চাল ও এক লাখ টাকা এবং এক হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ পেয়েছি। ইতোমধ্যে তা স্থানীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে।

 

/আইএ/

লাইভ

টপ