সীমান্ত দিয়ে সিলেট আসছে ভারতীয় চোরাই মোবাইল

Send
তুহিনুল হক তুহিন, সিলেট
প্রকাশিত : ১১:২০, আগস্ট ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৫১, আগস্ট ০৩, ২০২০

উদ্ধার করা চোরাই মোবাইলসিলেটের সীমান্ত দিয়ে ঢুকছে ভারতে চোরাই হওয়া মোবাইল। চোরাকারবারিরা সিলেটের তামাবিল লঅসিবুকমর নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৮ মাস অভিযান চালিয়ে ৬৯১টি মোবাইলসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে। ভারতীয় চোরাই মোবাইল সিলেটে আসতো এমন কল্পনা ছিল না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। গত বছর সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানাধীন মিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মোনাইম রাহি ও আহমেদ সামি নামের দু’জন যুবক ভারতে ২০৬টি চোরাই মোবাইলসহ কলকাতার লালবাজারে গোয়েন্দা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। এরপর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি।

ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন চোরাকারবারিরা বেশি দামে সিলেটের মোবাইলের দোকানগুলোতে বিক্রি করে। ভারতের চোরাইকৃত মোবাইল ফোনের আইএমইআই (মোবাইল ইক্যুইপমেন্ট আইডেনটিটি) বাংলাদেশে আসার পর শনাক্ত না হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে চোরাকারবারিরা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানা আওতাধীন তামাবিল সড়ক দিয়ে ভারতীয় চোরাই মোবাইল সিলেটে প্রবেশ করছে এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তামাবিল সড়কে চেকপোস্ট বসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল। এসময় চোরাকারবারিরা চেকপোস্টে না থেমে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পুরে পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে চোরাকারবারিরা সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানাধীন বাঘা এলাকায় নোহা গাড়ি রেখে পালিয়ে যায়। গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ এসে নোহা গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে ভারতে চোরাই হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৩১৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন গোলাপগঞ্জ থানার ওসি হারুনুর রশীদ চৌধুরী। তিনি জানান, গোলাপগঞ্জ থানাধীন বাঘা থেকে পুলিশ একটি নোহার ভেতর থেকে ৩১৬টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন উদ্ধার করে। এগুলো ভারতে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন। এরমধ্যে কয়েকটি মোবাইল রয়েছে বক্সসহ এবং অবশিষ্ট মোবাইল ফোন বক্স ছাড়া। উদ্ধারকৃত মোবাইলের মূল্য প্রায় ৭০-৮০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার কায়স্তরাইল এলাকা থেকে পরিত্যক্ত একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করে পুলিশ। সেটির সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান শুরু করে প্রথমে মহানগর পুলিশের ভূমি শাখায় কর্মরত এএসআই জাহাঙ্গীর হোসেনকে আটক করে। এ সময় জাহাঙ্গীরের বাসা থেকে জব্দ করা হয় তার ব্যবহৃত আরওয়ান ফাইভ মোটরসাইকেল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কাজিটুলা এলাকার মক্তব গলির ৪৪ নম্বর বাসার পঞ্চম তলা থেকে ফারুক মিয়াকে আটক করা হয়। এসময় ওই বাসা থেকে তিনটি কার্টন ভর্তি ভারতীয় স্যামসাং, ভিভো, অপ্পো ও এক্সজামিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৭৯টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ চার জনকে গ্রেফতার করে। গত ২৬ জুলাই র‌্যাব-৯ একটি দল সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানাধীন মুরাদপুর এলাকা থেকে ৭১টি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোন নগরের উপশহর এলাকার বাসিন্দা বুখাইর আহমদ ও পলাশ আহমদকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃতরা ভারতে চুরি হওয়া মোবাইল ফোন সিলেটে এনে বিক্রি করে। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনের বাজার মূল্য সাড়ে ১৮ লাখ টাকা বলে জানায় র‌্যাব।

অপরদিকে শাহপরাণ থানা পুলিশ চলতি বছরের ২২ জুন ভারত থেকে চোরাই পথে নিয়ে আসা ২৫টি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোনসহ জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।

উদ্ধারকৃত মোবাইল শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার জন্য চোরাচালানের মাধ্যমে সিলেটে নিয়ে আসে জাকির। এসময় পুলিশ তার কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার জব্দ করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার জ্যোতির্ময় সরকার (গণমাধ্যম) জানান, চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে সতর্কাবস্থায় রয়েছে পুলিশ। এছাড়া মহানগর এলাকায় পুলিশের নজরদারিতে রয়েছে।

সিলেট জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান (গণমাধ্যম) জানান, গোলাপগঞ্জ থানা এলাকা থেকে পুলিশ একটি নোহা গাড়িসহ ভারতীয় চোরাই মোবাইলের চালান উদ্ধার করে। এছাড়া সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোয় পুলিশের নজরদারি রয়েছে। পুলিশ বিজিবির সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ