জিপিএ-৫ পাওয়া সেই শামিমের ভর্তির টাকা জোগাড় হলো

Send
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৮:১৪, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:১৪, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২০

শামিম কবির নিরবের হাতে নগদ টাকা তুলে দেওয়া হচ্ছে

জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে খবর প্রকাশের পর জিপিএ-৫ পাওয়া সেই শামিম কবির নিরবের কলেজে ভর্তির খরচ পাঠিয়েছেন কয়েকজন সহৃদয়বান ব্যক্তি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ওই টাকা পাঠান তারা।

ওয়ালিউল ইসলাম আজিম নামে এক ব্যক্তি বাংলা ট্রিবিউনের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সরদারের বিকাশ নাম্বারে ১১ হাজার ৫০০ টাকা পাঠনোর পর তা ক্যাশ করে শামিম কবির নিরব ও তার পিতার হাতে তুলে দেন সাতক্ষীরার স্থানীয় দৈনিক পত্রদূতের উপদেষ্টা সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক লায়লা পারভীন সেঁজুতি। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পত্রিকাটির বার্তা সম্পাদক এসএম শহীদুল ইসলাম, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান সরদার, শেখ মনিরুজ্জামান মনি ও শামিমের বাবা সিদ্দিক মোড়ল। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শামিম কবির নিরবকে ৫ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

চায়ের দোকানে বাবা-মার সঙ্গে শামিমএদিকে, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী একজন হৃদয়বান ব্যক্তিও খবর পড়ে বুধবার রাতে ১০ হাজার টাকা শামিম কবির নিরবের বাড়িতে তার স্বজনদের হাতে পৌঁছে দেন। এছাড়া সংবাদটি প্রকাশের পর অনেকেই নিরবের লেখা-পড়া ও আর্থিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ওয়াল্টনের ন্যাশনাল সেলস ম্যানেজার ওয়ালিউল ইসলাম আজিম বলেন, ‘জিপিএ-৫ পেয়েও টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারছে না শামিম—বাংলা ট্রিবিউনের এমন একটি সংবাদ আমার নজরে আসে। সামান্য অর্থের অভাবে এমন একজন মেধাবী ছাত্র কলেজে ভর্তি হতে না পারার বিষয়টি দুঃখজনক। সংবাদটি দেখার পর আমি তাৎক্ষণিকভাবে শামিমের ভর্তির সব খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নিই এবং তার হাতে ভর্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক আসাদুজ্জামানের কাছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা পাঠাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের এসব মেধারীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। সম্মিলিতভাবে এগিয়ে এলে এসব মেধাবী ছাত্ররা অভাবের কারণে হারিয়ে যাবে না।’ ওরা বিকশিত হয়ে দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

চায়ের দোকানে শামিমএদিকে, ভর্তির টাকা পেয়ে শামীম কবির নিরব জানায়, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে সাহায্য ও সহযোগিতা পেয়ে তার মনে আশার আলো জ্বলে উঠেছে। ভর্তির সুযোগ পেয়ে খুশিতে কেঁদে ফেলে সে।

তার পিতা সিদ্দিকুর রহমানও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এবং একইসঙ্গে সবার জন্য দোয়া করেছেন।

প্রসঙ্গত, টাকার অভাবে থমকে গিয়েছিল বাবার সঙ্গে চা বিক্রি করেও গোল্ডেন ‘এ প্লাস’ পাওয়া শামিম কবির নিরবের ভর্তি। অনিশ্চিয়তায় দিন কাটছিল তার। কলেজে ভর্তি হতে তার প্রয়োজন ছিল এককালীন ১৪ হাজার টাকা। কিন্তু গরিব পিতার পক্ষে এককালীন ১৪ হাজার টাকা যোগাড় করা সম্ভব হয়নি। তাই কলেজে ভর্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ছিল নিরবের পরিবার। এ সংক্রান্ত একটি খবর বাংলা ট্রিবিউনে প্রকাশিত হলে ভর্তি ও অন্যান্য খরচ বাবদ বিভিন্ন হৃদয়বান ব্যক্তি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

আরও পড়ুন...
জিপিএ-৫ পেয়েও টাকার অভাবে কলেজে ভর্তি হতে পারছে না শামিম

/আইএ/

লাইভ

টপ