থানায় আনার তিন ঘণ্টার মধ্যে আসামির মৃত্যু!

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২০:০৭, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:১৬, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২০

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এজারুলের লাশ দেখছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। 
রংপুরে এক আসামিকে বাসা থেকে ধরে আনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গঙ্গাচড়া থানা হাজতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহতের নাম এজারুল। মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তাকে বাসা থেকে ধরে থানায় আনা হয়, রাত ৩টায় তাকে হাসপাতালে নেয় পুলিশ। দুই হাসপাতাল ঘুরে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। নিহতের পরিবার দাবি করছে, থানায় নিয়ে নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। 

স্বজনদের অভিযোগ পুলিশ ভালো মানুষকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে গেলো এখন লাশ হয়ে গেলো। অন্যদিকে পুলিশের দাবি আসামীকে আটক করে থানায় আনার পথেই সে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে সরাসরি হাসপাতালে নেবার পর সে মারা যায়।

নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, ২০০৩ সালের একটি হত্যা মামলায় রংপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা পেয়ে গঙ্গাচড়া থানার এস আই কিবরিয়া পুলিশ ফোর্সসহ গঙ্গাচড়া উপজেলার পুর্ব কচুয়া পাইকানটারি গ্রামের মৃত নূর আলীর ছেলে এজারুল ইসলাম (৪৫)কে মঙ্গলবার রাত ১২টায় গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর বুধবার সকালে তারা জানতে পারেন এজারুল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছে।

নিহত এজারুলের ছোট ভাই জানারুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তার ভাইকে পুলিশ গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এরপর রাত ৩ টার দিকে তাকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। এরপর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে আসার তিন ঘণ্টার মধ্যে কেন গঙ্গাচড়া হাসপাতালে নিয়ে গেলো? তাহলে কি থানায় তাকে নির্যাতন করা হয়েছে?

একই অভিযোগ করেছেন নিহতের শ্বশুর মোবারক আলী, মামা শ্বশুর মহুবুল ইসলামসহ অন্য স্বজনরা। তাদের দাবি, পুলিশ নির্যাতন করেই এজারুলকে মেরে ফেলেছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার দাবি করেছেন।

তবে গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে এজারুল অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার।

রংপুর মেডিকেল কলেজের মর্গে এজারুলের লাশ দেখছেন ম্যাজেস্ট্রেট।

তিনি গঙ্গাচড়া থানায় এসে সাংবাদিকদের জানান, আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা পেয়ে আসামি এজারুল ইসলামকে পুলিশ তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে থানায় আনার পথেই সে অসুস্থবোধ করে। এটা জানার পর তাকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে ভোরে সে মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু পুলিশ হেফাজতে মারা গেছে সে কারণে ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সুরত হাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্ত করা হবে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এজারুলকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিলো। হাসপাতালের আনার আগেই তিনি মারা গেছেন।

নাম প্রকাশে অনিশ্চুক নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, পুলিশ রাত ১২টায় তাকে গ্রেফতার করার পর তিন ঘণ্টা কোথায় ছিল এজারুল? পুলিশ দাবি করছে, গ্রেফতার করার পর পরেই সে অসুস্থতা অনুভব করায় থানায় না নিয়ে তাকে গঙ্গাচড়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু, হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাত ৩টার দিকে পুলিশ তাকে গঙ্গাচড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে। ফলে পুলিশের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। আসলে থানায় নিয়ে গিয়ে পুলিশের নির্যাতনেই সেখানেই এজারুল মারা গেছে।

এদিকে, এজারুল মারা যাওয়ার পর তার লাশ হাসপাতালের মর্গে রেখে আসে পুলিশ। তবে পুলিশের অনুমতি ছাড়া মর্গ খুলে দেওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরে বেলা ১২টার দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রায়হানুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা হাসপাতালের মর্গে এসে লাশ দেখেন।

এ সময় সাংবাদিকরা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পুরো বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, লাশের সুরত হাল তৈরি করার পর বিস্তারিত জানানো হবে। তবে নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে মর্গের এক কর্মচারী জানিয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে জানতে গঙ্গাচড়া থানার ওসি সুশান্ত কুমার সরকারকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

/টিএন/

লাইভ

টপ
X